Bangla Romantic Golpo | সুইটহার্ট | পার্ট-৭
Bangla Romantic Golpo — সুইটহার্ট — পার্ট-৭ — মোনালিসা মেহরোজ…
Bangla Romantic Golpo — সুইটহার্ট — পার্ট-৭ — মোনালিসা মেহরোজ
পার্কের ভেতর তাণ্ডব চালানোর পর শেষমেশ তিনজনই হাঁপিয়ে উঠলো। মেহরিনও বুঝে গেলো শিফা আর শাওনকে ধাওয়া করে লাভ নেই। কারণ ওরা দুইজন মিলে তার হাত থেকে বাঁচার জন্য অলিম্পিক দৌড়বিদে পরিণত হয়েছে।
অবশেষে অনেক ঝগড়া, মান-অভিমান আর চিৎকার-চেঁচামেচির পর শিফাই আত্মসমর্পণ করলো।
—আচ্ছা আচ্ছা! ভুল হয়েছে। এবার সত্যি আইসক্রিম খাওয়াবো।
মেহরিন দুই হাত বুকের কাছে গুটিয়ে সন্দেহভরা চোখে তাকালো। কন্ঠে সন্দেহ ঢেলে বললো—-
—সত্যি?
—হ্যাঁ।
—কসম খা।
—কিসের?
—আইসক্রিমের।
শিফা চোখমুখ খিঁচে ফেললো।
—আইসক্রিমের আবার কসম হয় নাকি?
—হয়।
শেষমেষ বাধ্য হয়ে শিফাকে কসম খেতে হলো। তারপর সত্যিই তিনজন মিলে রাস্তার পাশের দোকান থেকে আইসক্রিম কিনলো।আইসক্রিম হাতে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির দিকে ফিরছে তারা। শাওন এক কামড় দিয়ে বললো—-
—জীবনে এতো দৌড়াইনি।
—এখনো কম দৌড়িয়েছিস।
মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো মেহরিন। শাওনের বুক কেঁপে উঠলো।
—মানে?
—বাড়ি গিয়ে দ্বিতীয় কিস্তি শুরু করবো।
—ইয়া আল্লাহ!
শাওন কেঁদে ওঠার ভঙ্গি করতেই শিফা আর মেহরিন হেসে ফেললো। চারিদিকে তখন শেষ বিকেলের কমলা রঙা লালিমা ছাড়িয়ে যাওয়া অস্তমিত সূর্যের ঝলকানি খেলে যাচ্ছে। আশপাশ দিয়ে সাইকেল ছুটে যাচ্ছে টিং টিং আওয়াজ তুলে। মেহরিন তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে তা। পার্কের এদিকটায় বিকেলবেলা কিছু মানুষ হাটাহাটি করতে আসে। বেশ ভালো লাগে দেখতে
মেহরিন,শিফা, শাওন এসব’ই দেখতে দেখতে এগিয়ে যাচ্ছিলো। ঠিক তখনই তাদের পথ আগলে দাঁড়ালো চার-পাঁচজন ছেলে। মুহূর্তেই তিনজনের হাসি থেমে গেলো। ছেলেগুলোর চেহারা সুবিধার মনে হচ্ছে না। বয়স পঁচিশ-ছাব্বিশ হবে। সবার চোখেমুখে অদ্ভুত একটা ভাব। বাজে অঙ্গভঙ্গি তাদের।গায়ে পোশাকের অবস্থা যা ইচ্ছে তা। তাদের মধ্যে হতে একজন দাঁত বের করে বললো—-
—কোথায় যাচ্ছো সুন্দরীরা?
শিফার মুখ শক্ত হয়ে গেলো এহেন সম্মোধনে। ছেলেগুলোর বাজে নজর তখন ফালা ফালা করে দিচ্ছিলো তাদের মেইলি কায়া। শাওনও কপাল কুঁচকে দাঁড়িয়ে রইলো, হাতের মুঠো শক্তি হয়ে এলো তার। অন্যদিকে মেহরিন রইলো নির্বিকার। আইসক্রিম চাটতে চাটতেই সে বললো—-
—বাড়ি যাচ্ছি।
ছেলেটা অবাক হলো। এহেন সম্মোধনে, বাজে নজরেও মেয়েটা এতোটা স্বাভাবিক আছে কি করে তা তারা ভেবে পেলো না। কপালে ভাজ ফেলে বললো—-
—বাড়ি যাচ্ছো?
—না, চাঁদে যাচ্ছি। যাবেন?
পাশের ছেলেগুলো হেঁসে উঠলো তার কাথায়। মধ্য হতে আর একজন নোংরা হেঁসে বললো—-
—মুখটা কিন্তু বেশ চালু এই সুন্দরীটার।
—ধন্যবাদ।
লোকটার কথার পাছে চট করে বলে উঠলো মেহরিন। অতঃপর আবারো মশগুল হলো আইসক্রিমে। একজন লোক ফের বললে—-
—ফোন নাম্বার দাও।
—কেন?
—কথা বলবো।
মেহরিন চিন্তিত মুখ করে বললো—-
—কিন্তু একটা সমস্যা আছে।
—কি সমস্যা?
—আমার ফোনে ব্যালেন্স নেই।
শাওন মুখ চেপে ধরলো। শিফা মাথা নিচু করে ফেললো। এই মেয়ে এমন সময়েও ফাজলামি করছে! ছেলেগুলোর একজন এবার একটু বিরক্ত হলো।
—বেশি কথা বলো না।
—তাহলে কম কথা বলি?
—আমরা কিন্তু সিরিয়াস।
—আমিও তো সিরিয়াস। আমার গণিতে একত্রিশ নম্বর এসেছিলো, সিরিয়াস না হলে আসতো এতোটা নাম্বার?
এক মুহূর্তের জন্য সবাই চুপ হয়ে গেলো মেহরিনের কথায়। পরিস্থিতি আগের তুলনায় বেশ গম্ভীর হয়ে পরলো। একজন যুবক দাঁতে দাঁত চেপে বললো—-
—তোমাকে কিন্তু আমার ভালো লেগেছে।
—আমাকে ভালো না লাগিয়ে দেয়ালে লাগান। আমি বাসায় যাবো। দেওয়াল এখানেই থাকবে।
মুহূর্তেই শাওনের কাশি উঠে গেলো। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে। ছেলেগুলোর মুখও শক্ত হয়ে এসেছে। তাদের নেতা টাইপ ছেলেটা এবার সামনে এগিয়ে এলো।
—দেখো, আমরা ভালোভাবে কথা বলছি। ভালোভাবে উত্তর দাও।
—আমিও ভালোভাবেই বলছি।
—তোমাকে নিয়ে যেতে চাইলে কি করবে?
—চিৎকার করবো।
—তারপর?
—জ্ঞান হারাবো।
—তারপর?
—জানি না। এরপরের স্ক্রিপ্ট লিখিনি।
এবার সত্যিই ছেলেগুলো বিরক্ত হয়ে গেলো। মেহরিন যে সিরিয়াস বিষয় নিয়েও মজা করছে তা আর বুঝতে বাকি রইলো না। আর এটাই বেশ রাগিয়ে দিলো ছেলেগুলোকে। রাগান্বিত মুখে দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো। অতঃপর একজন হাত বাড়িয়ে মেহরিনের দিকে এগিয়ে আসতেই হঠাৎ করেই একটা গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো—-
—হাতটা নামাও।
সকলেই ঘুরে তাকালো সেদিকে। রাস্তার অপর পাশে দাঁড়িয়ে আছে এক যুবক। উচ্চতা ছয় ফুটের কাছাকাছি। সাদা শার্টের হাতা গোটানো।
মুখে তীব্র গম্ভীরতা বিরাজ করছে। চোখদুটো ঠান্ডা কিন্তু তীক্ষ্ণ। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। আর তাকে দেখেই মেহরিনের চোখ চকচক করে উঠলো।
—আরেব্বাস!
শিফা তাকালো। কপাল কুঁচকে বললো—
—কি?
—হিরো রে হিরো! ক্রাশ খেলাম। ওয়ে মা…।
মেহরিন গালে হাত দিয়ে ছেলেটাকে পরখ করে নিলো। তারপর আবার নিজের প্রেস্টিজ রক্ষার্থে নিজের চোখ সরিয়ে নিলো। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে ছ্যাচড়া ভাববে না?
অন্যদিকে শাওন মাথা চাপড়ালো। এই মেয়েকে নিয়ে তার আর কিছুই বলার নেই। এই বিপদের সময়’ও সে ক্রাশ খাচ্ছে? মজা করছে সে?
এরমধ্যেই যুবকটি ছেলেগুলোর সামনে এসে দাঁড়ালো। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো—-
—সমস্যা কি?
যুবকটির কণ্ঠে এমন কিছু ছিলো, যাতে ছেলেগুলো একটু থমকে গেলো। তারা একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলো। তাদের মধ্যে একজন বললো—-
—আপনি কে?
—সেটা জানার দরকার নেই। রাস্তা ছাড়ো।
কয়েক মুহূর্ত দু’পক্ষ একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলো। বখাটে গুলো কিছু বলতে চেয়েও পারলো না। কারণ আশেপাশে লোক সমাগম বেড়ে যাচ্ছে। এখন ঝামেলা করলে পাবলিক পেটাবে।
শেষমেষ ছেলেগুলো বুঝে গেলো এখানে ঝামেলা করে সুবিধা করতে পারবে না। তাই তারা ধীরে ধীরে সরে গেলো। তবে যাওয়ার আগে সেই নেতা টাইপ ছেলেটা মেহরিনের দিকে আঙুল তুলে বললো—-
—আজকে বেঁচে গেছো। কিন্তু আবার দেখা হবে। তখন এভাবে ছাড়বো না।
কথাটা বলেই দলবল নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো ছেলেটা৷ আসলে তারা প্রচুর বিরক্ত মেহরিনের আচরণে। বিরক্তির পাশাপাশি রাগান্বিত সকলে। লোকগুলো চলে যেতেই সবকিছু ঠান্ডা হয়ে এলো। পরিবেশটা শান্ত হতেই শিফা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। শাওনও হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো। অন্যদিকে যুবকটি ঘুরে মেহরিনদের দিকে তাকালো। সকলকে একবার পরখ করে জিজ্ঞেস করলো—-
—আপনারা ঠিক আছেন?
শিফা ভদ্রভাবে মাথা নাড়লো।
—জি, ধন্যবাদ।
যুবকটি মৃদু হাসলো। তারপর দৃষ্টি গিয়ে থামলো মেহরিনের উপর। মেহরিন তখনও আইসক্রিম খাচ্ছে।যেনো কিছুই হয়নি আশেপাশে। সব ঠিক আছে, ঠিক তার আইসক্রিমের মতো। যুবকটি মেহরিনকে পরখ করে জিজ্ঞেস করল—-
—আপনি?
মেহরিন মুখ তুলে বললো—-
—আমি?
—জি।
—আমি আইসক্রিম খাচ্ছি।
যুবকটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। শাওন মুখ ফিরিয়ে হাসি চাপলো। যুবকটি আবার বললো—-
—আমি আসলে বলতে চাচ্ছিলাম…।
—আচ্ছা, ধন্যবাদ।
কথাটা শেষ করতে দিলো না মেহরিন। পথিমধ্যে যুবকটিকে আঁটকে দিয়ে ফের বললো—-
—আপনি খুব ভালো কাজ করেছেন। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসী করুক। আমিন…।
—আরে শুনুন….।
—আল্লাহ হাফেজ।
কথাটা বলেই শিফা আর শাওনের হাত ধরে টান দিলো সে। আসলে সে তার অ্যাটিটিউড দেখাতে ব্যাস্ত। মেয়ে মানুষের অ্যাটিটিউড থাকবে না?
মেহরিন একহাতে আইসক্রিম অন্যহাতে শিফার হাত ধরে নিচু স্বরে বললো—-
—চল।
কপাল কুঁচকে নিলো শিফা। প্রশ্ন করলো—-
—কোথায়?
—বাড়ি।
—কিন্তু….।
—কোন কিন্তু না।
এরপর তিনজন এমনভাবে হেঁটে চলে গেলো যেনো তাদের পেছনে কেউ লেগেছে। যুবকটি দাঁড়িয়ে রইলো। কয়েক সেকেন্ড পর নিজের অজান্তেই হেসে ফেললো সে।
—অদ্ভুত মেয়ে।
————————–
সন্ধ্যার কিছুটা পরেই বাড়িতে ফিরলো আদ্রিয়ান। সারাদিনের কাজ শেষে খানিকটা ক্লান্ত লাগছে তার। হাতে গাড়ির চাবি ঘোরাতে ঘোরাতে ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করতেই থমকে গেলো৷ পুরুষটি। সেন্টার টেবিলজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটা মেয়ের ছবি।
আর সেই ছবিগুলোর মাঝখানে বসে আছেন সাহেলা চৌধুরী। একবার একটা ছবি দেখছেন, আবার সেটা সরিয়ে আরেকটা হাতে নিচ্ছেন।
আদ্রিয়ান ভ্রু কুঁচকে ফেললো।
—কি হচ্ছে এখানে?
সাহেলা চৌধুরী মুখ তুলে তাকালেন।
—ওহ, তুই এসেছিস?
—জ্বী। কিন্তু এই ছবিগুলো?
সাহেলা চৌধুরী স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন—-
—তোর জন্য পাত্রী দেখছি।
আদ্রিয়ান এক মুহূর্ত চুপ করে রইলো। তারপর ধীর হস্তে একটা ছবি তুলে বললো—
—হঠাৎ?
—হঠাৎ কোথায়? তোর বয়স কি কম হচ্ছে?
কতদিন ধরে বিয়ের কথা বলছি। শুনছিস তা?
আদ্রিয়ান ছবিটা আবার নামিয়ে রাখলো।
—কিন্তু আমি তো একজনের কথা বলেছিলাম।
সাহেলা চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
—সেই মেয়েটা তোর ভাগ্যে নেই। তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
এক মুহূর্ত থামলেন তিনি। অতঃপর শান্ত গলায় ফের বললেন—-
—তোর বাবাও কথা বলেছিলেন। কিন্তু লাভ হয়নি। ওদের পরিবার রাজি না।
আদ্রিয়ান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। কারণ এই খবর সে আগেই জানে। বরং নির্বিকার ভঙ্গিতেই দাঁড়িয়ে রইলো। সাহেলা চৌধুরী আবার একটা ছবি হাতে তুলে নিয়ে বললেন—-
—তাই ভাবলাম সময় নষ্ট করে লাভ কি? নতুন করে দেখা শুরু করি।
আদ্রিয়ান এবার বিরক্ত হলো। বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে বললো—-
—এসব করতে হবে না। পাত্রী দেখা অফ করো।
—কেনো?
—পাত্রী আমি নিজেই খুঁজে নিবো।
সাহেলা চৌধুরী কপালে গাঢ় ভাজ ফেলে বললেন—-
—খুঁজে নিবি মানে?
আদ্রিয়ান স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বললো—-
—খুঁজে নিবো মানে খুঁজে নিবো।
—আমি আর সময় দিচ্ছি না। তোর খোঁজাখুঁজির উপর আমার বিশ্বাস নেই।
—কিন্তু ম….।
—কোন কিন্তু না।
আদ্রিয়ান আর কোন উত্তর দিলো না। বরং বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে দ্রুত পায়ে উপরে উঠে গেলো। কেননা সে জানে, জেদ করে লাভ নেই। বরং নিঃশব্দে নিজের কাজ করে যেতে হবে৷
আদ্রিয়ান নিজের রুমে ঢুকেই দরজা লাগিয়ে দিলো। তারপর কোটটা খুলে চেয়ারের উপর ছুঁড়ে ফেললো। মুখটা কেমন বিরক্তিতে কুঁচকে আছে৷
সারাদিন ভার্সিটিতে মেহরিনের কাণ্ডকারখানা মনে করে কাটিয়ে দিয়েছে বিরক্তিতে। তার উপর বাড়িতে ফিরেই আবার পাত্রী দেখার অনুষ্ঠান!
বিছানার কিনারায় বসে চোখ বন্ধ করলো সে।
আর তখনই তার চোখের সামনে ভেসে উঠলো একটা পরিচিত মুখ। বড় বড় চোখ। বিরক্তিকর বকবকানি। আর সুযোগ পেলেই পালিয়ে যাওয়ার স্বভাব। আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে চোখ খুললো। তারপর নিচু স্বরে বিড়বিড় করে বললো—-
—আমাকে এভাবে তড়পানোর জন্য তোমায় কঠিন শাস্তি পেতে হবে সুইটহার্ট, আমি তোমায় ছাড়ছি না। বিয়ে না বিয়ে! করাচ্ছি তোমায় বিয়ে।
——————————-
সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরতেই মনোয়ার শেখ ডাক দিলেন মেহরিনকে—-
—মেহু!
—জী আব্বু?
—এদিকে আয়।
মেহরিন ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করলো। সোফায় বসে আছেন মনোয়ার শেখ আর সুফিয়া বেগম।
দুজনের মুখেই রহস্যময় হাসি। মেহরিনের সন্দেহ হলো তা দেখে। কপালে ভাজ ফেলে এসে বসলো সোফায়।
—কি হয়েছে?
মনোয়ার শেখ ফোন বের করলেন। মুখটা জ্বলজ্বল করছে খুশিতে।
—পাত্রের ছবি এনেছি তোর জন্য।
মুহূর্তেই মেহরিনের মুখ শুকিয়ে গেলো। সে বুঝতে পারলো এখানে কিসের কথা হচ্ছে। নিশ্চয়ই তার বিয়ের কথা তুলছে বাবা-মা! মেহরিন মুখটা কাঁদো কাঁদো করে নিলো। বললো—-
—আবার শুরু হলো!
—চুপ করে দেখ।
মায়ের ধমকে চুপ করলো মেহরিন।সুফিয়া বেগম ফোনটা এগিয়ে দিলেন। মেহরিন বিরক্ত মুখে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাতে না চাইতেও তাকালো। আর পরের মুহূর্তেই জমে গেলো মেয়েটা। চোখ জোড়া বড় বড় হয়ে গেলো তার। চোয়াল ধীরে ধীরে নিচে নেমে এলো।
কারণ স্ক্রিনে যে ছবিটা দেখা যাচ্ছে—সে আর অন্য কেউ নয়। কিছুক্ষণ আগেই রাস্তার মাঝে তাদের বাঁচানো সেই যুবক! মেহরিন কয়েকবার চোখ পিটপিট করলো।তারপর আবার ছবির দিকে তাকালো। এভাবে বেশ কয়েকবার তাকালো সে। নাহ্, সে ভুল দেখছে না। একই মানুষ। একই মুখ। একই চোখ। মনোয়ার শেখ হাসিখুশি গলায় বললেন—-
—কেমন?
মেহরিন এখনও স্তব্ধ। সুফিয়া বেগম হেসে বললেন—-
—ছেলেটার নাম শুনবি?
মেহরিন কোনো উত্তর দিতে পারলো না।
সে শুধু ফ্যালফ্যাল করে ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলো। মাথার ভেতর তখন একটাই কথা ঘুরপাক খেতে লাগলো—-
—ইয়া আল্লাহ…এই হিরোটা-ই পাত্র?

