Bangla Romantic Golpo | টুইঙ্কেল বেল | পর্ব ০৪
টুইঙ্কেল_বেল | পর্ব ০৪ | লেখা: লামিয়া রহমান মেঘলা বৃষ্টি…
টুইঙ্কেল_বেল | পর্ব ০৪ | লেখা: লামিয়া রহমান মেঘলা
বৃষ্টি রূপকথার ভীষণ প্রিয়। জানালার পাশে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃষ্টি দেখতে তার কখনোই আমোহ হয় না। বর্ষায় যখন মুষলধারে বৃষ্টি একটানা ঝরে পড়ে, রূপকথা তখন মন ভরে একদিন সেই বৃষ্টিতে ভিজে নেয়। বর্ষার জলে ধুয়ে মুছে প্রকৃতি যেন নতুন করে নিজের রূপ ফিরে পায়। আকাশজুড়ে জমাট বাঁধা ধূসর মেঘ, বাতাসে ভেসে বেড়ানো সোঁদা মাটির গন্ধ, গাছের পাতায় টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ, সব মিলিয়ে চারপাশে এক অপার্থিব মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে। দূরের গাছগুলো বৃষ্টির আবছা পর্দার আড়ালে ঝাপসা হয়ে আসে, আর চারদিকে কেবলই বৃষ্টির সুর বাজতে থাকে।
আজগর বাড়ির পেছনের বাগানটাও অপূর্ব সুন্দর। হরেক রকম ফুলের গাছে ভরা সেই বাগান যেন রূপকথার নিত্যদিনের সঙ্গী। বিকেলে সে রুশোকে নিয়ে বাগানে যায়। রুশোও সেখানে গিয়ে রূপকথার সাথে সময় কাটায়।
আজ সকাল থেকেই বৃষ্টি। রোজ নিয়ম করেই এই সময়টায় বৃষ্টি হচ্ছে। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাহিরের বৃষ্টি দেখছিল রূপকথা। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো জানালার কাঁচ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে, যেন স্বচ্ছ কাঁচের বুকে কেউ অদৃশ্য আঙুলে গল্প লিখে যাচ্ছে। এমন সময় রুশো হাতে একটা খেলনা গাড়ি নিয়ে রুমে প্রবেশ করল।
“টুইঙ্কেল টুইঙ্কেল, দেখো না আমার গাড়িটা ভেঙে গিয়েছে।”
রূপকথা ফিরে চাইল রুশোর দিকে। রুশোর হাতে ভাঙা গাড়িটা দেখে সে মৃদু হাসল। রুশোর দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,
“রুশো, আমার বর মসাই, আপনি না লক্ষ্মী বাচ্চা। লক্ষ্মী বাচ্চারা কষ্ট পায় না। আপনাকে আমি কাল নতুন গাড়ি কিনে দিব।”
কথাটা শুনে রুশো লাফিয়ে উঠল।
“সত্যি টুইঙ্কেল, তুমি আমাকে নিয়ে যাবে? আমি এত না না, এত এত খেলনা কিনব।”
রুশোর আনন্দ দেখে রূপকথাও মৃদু হাসল। সে রুশোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
“ঠিক আছে বর মসাই, আপনার যতগুলো ইচ্ছে ততগুলো কিনিয়েন।”
এভাবেই চলছে দিন। রূপকথা রুশোর জন্য নিজের কলেজটাও বিসর্জন দিয়েছে। রূপকথা নিজেকে আজগর পরিবারের সাথে মানিয়ে নিয়েছে।
বাবা এবং ভাইয়ের সাথে তার তেমন দেখা হয় না। কথাও হয়নি বেশ কয়েক দিন। কিছুদিন আগে একবার তার বাবা এসেছিল শ্বশুরের কাছে। হয়তো কোনো প্রয়োজন ছিল। তবে ফেরার পথে বাবার কাছে ছোটখাটো একটা টাকার লাগেজ দেখেছিল রূপকথা।
কথাটা ছিল ভীষণ অদ্ভুত এবং হৃদয়কাতর। বাবা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে এসেও মেয়ের সাথে দেখা না করেই ফিরে গিয়েছিল। সেই স্মৃতি বুকের ভেতর হালকা ব্যথা হয়ে রয়ে গেলেও রূপকথা আর সেসব ভাবতে চায় না।
বাগানের সজীব সবুজ ঘাসগুলোর উপর বৃষ্টির পানি পড়ে সেগুলোকে আরও মোহনীয় করে তুলেছে। প্রতিটি ঘাসের ডগায় জমে থাকা স্বচ্ছ জলের বিন্দু যেন ছোট ছোট মুক্তোর মতো ঝিলমিল করছে। ফুলের পাপড়িতে বৃষ্টির জল জমে আছে, বাতাস দুললেই সেগুলো কেঁপে উঠে নিচে ঝরে পড়ছে। চারপাশে এক নির্মল স্নিগ্ধতা, যেন প্রকৃতি আজ নিজের সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে ফেলেছে।
রূপকথা এবং প্রোমা ঘাসের উপর দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে। সেই সঙ্গে আজ যোগ হয়েছে রাজিয়া শেখও। ছেলের বউয়ের সাথে তিনি সব সময় বন্ধুসুলভ আচরণ করেন। রূপকথাও অতীত পেরিয়ে এই জীবনটাকে সত্যিই উপভোগ করছে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটার সাথে যেন তার মনের পুরোনো ক্ষতগুলোও ধুয়ে যাচ্ছে, আর নতুন করে জন্ম নিচ্ছে শান্ত, স্নিগ্ধ এক জীবন।
———–
বৃষ্টি ভেজা শরীর নিয়ে রূপকথা রুমে এসেছে।
তার পরনে গেঞ্জি আর প্লাজু ছিলো।
সাদা গেঞ্জি লেপ্টে আছে শরীরের সাথে।
ওয়াসরুমে রুশো গিয়েছে, রূপকথা বাহির থেকে রুশোকে আওয়াজ দেয়,
“রুশো জান আমার, আপনি একটু বের হন বর মসাই। আমি ভিজেছি আমার ঠান্ডা লাগছে।”
কথাটা বলার সাথে সাথে রুশো ওয়াসরুমের দরজা খুলে দেয়।
রূপকথা ভেতরে প্রবেশ করে রুশোকে না দেখেই পরনের গেঞ্জি টা খুলে ফেলে।
কিন্তু যখন প্লাজুতে দিবে এমন সময় সে বুঝতে পারে তার পেছনে কেউ তাকিয়ে আছে।
রূপকথা ফিরে চায় পেছন দিকে।
রুশো দাঁড়িয়ে সেখানে, সে হা করে তাকিয়ে আছে ভ্যাবলার মত।
রূপকথা ভ্রু কুঁচকে বলে,
“বর মসাই আপনি বের হন নি কেন?”
রুশো তাকিয়ে আছে রূপকথা দিকেই। সে হটাৎ করেই ঠোঁট উল্টে বলে,
“টুইঙ্কেল, আই ওয়ান্ট টু প্লে দ্যা গেম উইথ ইউ৷”
রূপকথার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
তবে এরপর রুশো তাকে তার সম্পূর্ণ উত্তর খানাও দিতে দেয়না।
রূপকথা বাধ্য হয়েই রুশোর তালে তাল মেলায়।
লোকটাকে সামলানো বড্ড কঠিন।
———
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে ধরণীজুড়ে। রূপকথা তখনো ঘুমিয়ে আছে। রুশোও ঘুমিয়ে ছিল, তবে কিছুক্ষণ আগেই তার ঘুম ভেঙেছে।
ঘুম ভাঙার পর কিছুক্ষণ সে নিজের রূপকথার দিকে তাকিয়ে ছিল। এরপর রূপকথার পাশে এসে তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও রূপকথা ওঠেনি। তাই রুশো ধীরে ধীরে রূপকথার গেঞ্জির ভেতর ঢুকে তার বুকের সাথে নিজের গাল লাগিয়ে শুয়ে আছে।
রূপকথা ঘুমের ঘোরে কিছু বলতে পারছে না। আবার রুশোকে সরাতেও পারছে না। বাধ্য হয়ে তাই সে ওভাবেই ঘুমিয়ে আছে। সে ভীষণ ক্লান্ত। রুশো নামক এই মানুষটাকে সামলানো চারটে খানি কথা নয়। তার উপর রুশো না বুঝেই অনেক সময় রূপকথার সাথে হঠকারী সব কাজ করে বসে। তখন রূপকথা চাইলেও রুশোকে থামাতে পারে না।
রুশো রূপকথার গেঞ্জির নিচে শুয়ে এটা ওটা করে চলেছে। যখন সে দেখে তার টুইঙ্কেল এত কিছু করার পরেও ঘুম থেকে উঠছে না, তখন সে বাধ্য হয়ে ওভাবেই ঘুমিয়ে যায়।
রাত ৮টা।
বুকের উপর ভারী কিছু অনুভব করে রূপকথা ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকায়। ভালো করে তাকিয়ে রুশোকে এভাবে ঘুমাতে দেখে রূপকথা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
তার শরীর বিষের মতো ব্যথা করছে। এত ভারী একটা মানুষকে এভাবে বুকের উপর নিয়ে ঘুমানো কি চারটে খানি কথা।
রূপকথা বহু কষ্টে রুশোকে উঠিয়ে বসায়। রুশো ঘুম ঘুম চোখে রূপকথার দিকে তাকিয়ে আছে।
“টুইঙ্কেল, আরেকটু ঘুমাতে চাই আমি।”
রূপকথা বুকে হাত দিয়ে বলে,
“বর মশাই, আপনাকে এভাবে নিয়ে ঘুমালে আমি মরেই যাব।”
রুশোর চোখজোড়া ছলছল করে ওঠে। সে মাথা নিচু করে বলে,
“সরি টুইঙ্কেল, রুশো আর কখনো এমন করবে না। প্লিজ, তুমি এভাবে বলো না।”
রূপকথা তো কথার কথা বলেছিল। রুশো যে এমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা সে বুঝতে পারেনি। দ্রুত রুশোকে বুকে টেনে নিয়ে বলল,
“বর মশাই, আমি ওভাবে বলিনি। চলুন, আমরা নিচে যাই। আপনাকে সুস্বাদু একটা স্ন্যাকস বানিয়ে দিই।”
রুশো আবার খুশি হয়ে যায়।
“সত্যি?”
“হ্যাঁ।”
“চলো তবে।”
—————
একটি অন্ধকার কক্ষে বসে আছে এক মধ্যবয়স্ক পুরুষ। কক্ষজুড়ে ঘন অন্ধকারের আবরণ, কেবল মৃদু আলোয় তার ছায়ামূর্তি কিছুটা দূর থেকে অস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। আলো আর অন্ধকারের মাঝামাঝি অবস্থানে বসে থাকা মানুষটিকে যেন আরও বেশি রহস্যময় লাগছে।
তার ঠিক সামনেই বসে আছে নাসির উদ্দীন। নাসির উদ্দীনের হাতে ওয়াইনের গ্লাস, গাঢ় লাল তরলটা কাঁচের ভেতর হালকা দোল খাচ্ছে। তার পাশেই বসে আছে তার ছেলে মাহি। কক্ষের ভারী নীরবতা যেন চারপাশে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে রেখেছে।
হঠাৎ সামনের রহস্যময় পুরুষটি নীরবতা ভেঙে জিজ্ঞেস করল,
“রুশোর কি খবর, জানেন কি কিছু?”
নাসির উদ্দীন ঠোঁটের কোণে হালকা বিদ্রূপের রেখা টেনে বলল,
“এটা আমার থেকে বেশি আপনি জানবেন, মিস্টার শেখ। নেক্সট প্ল্যান কী, বলুন তো?”
কথাটা শোনা মাত্র লোকটা ধীরে ধীরে মাথা এগিয়ে দিল। মৃদু আলোর সীমা পেরিয়ে মুখটা সম্পূর্ণভাবে আলোয় ভেসে উঠল।
আফজাল শেখের ঠোঁটের কোণায় ফুটে উঠল এক বাঁকা হাসি।
“কাল আমার মেয়ে তার শখের বর মশাইকে নিয়ে বিকেলে বের হবে। আমি চাই কাজটা হয়ে যাক। এরপরেও যদি সুযোগের অপেক্ষা করেন আপনারা, তবে আমার মনে হয় না আর কিছু হবে।”
মাহি হাতে ধরা ওয়াইনের গ্লাসটা টেবিলের উপর রেখে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“ভালো ইনফরমেশন এনেছেন, মিস্টার শেখ। কাজটা তবে কালকেই শেষ করব।”
আফজাল শেখ শীতল স্বরে বলল,
“যত দ্রুত শেষ করবেন, ততই আমাদের লাভ।”
মাহির চোখে তখন লোভ আর নির্মমতার ছাপ স্পষ্ট।
“আশা করা যায়, কাল রুশো আর বাঁচবে না। এরপর আজগর এম্পায়ারে কীভাবে দখল বসাতে হয়, তা আমার ভালোই জানা আছে।”
নাসির উদ্দীনের কথা শুনে আফজাল শেখ কিছুটা হাসলেন। সেই হাসিতে ছিল কুটিল তৃপ্তির আভাস।
“এই খুশিতে একটা শট হয়ে যাক নাকি?”
নাসির উদ্দীন সঙ্গে সঙ্গে সায় দিল।
“জি, জি, অবশ্যই।”
“নাসির সাহেব। নিজের কথা রাখবেন। আমার মেয়েকে রুশোর সাথে বিয়ে দেওয়ার প্লানটা কিন্তু আমারি ছিলো।’
” শেখ সাহেব, ভয় পাবেন না। আপনাকে দেওয়া কথা আমি রাখব। আর সত্যি বলতে আপনি ছাড়া এত বড় মিসন সাকসেসফুলি শেষ করা আমাদের পক্ষেও সম্ভব ছিলোনা।”
আফজাল শেখ বাঁকা হাসলেন।
“মেয়ে কুরবান করেছি আমি। তাই আমার ভাগটা বেশিই।”
“জি জি অবশ্যই।”
———–
পর দিন বিকেলবেলা।
রুশো রূপকথার গেঞ্জিতে মুখ গুঁজে রূপকথার কোমড় জড়িয়ে ধরে রেখেছে। রূপকথা হাতে চিরুনি নিয়ে রুশোর ঘাড়ে হাত রাখল।
“এই যে বর মশাই, ছাড়ুন আমাকে। বাইরে যাবেন না নাকি?”
বাইরে যাওয়ার কথা শুনে রুশো ফট করে মুখ বের করে নিল।
“ইয়েস ইয়েস টুইঙ্কেল, যাব তো আমি।”
রূপকথা মৃদু হেসে বলল,
“তাহলে লক্ষ্মী বাচ্চার মতো বসে থাকুন। আমি আপনার চুল ঠিক করে দিই।”
রূপকথা যত্ন করে রুশোর চুল ঠিক করে দিয়ে বলল,
“এখানে বসে থাকবেন বর মশাই। আমি এক্ষুনি জামা বদলে আসছি। এরপর আমরা যাব খেলনা কিনতে।”
“ওকে।”
রূপকথা রুশোর কপালে চুমু খেয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। রুশো বাধ্য বাচ্চার মতো সেখানেই বসে রূপকথার অপেক্ষা করতে লাগল।
কিছুক্ষণ পর রূপকথা রেডি হয়ে বেরিয়ে এল। দুজন রাজিয়া শেখের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে খেলনার শপের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল।
খেলনার শপে ঢুকতেই হরেক রকম খেলনা দেখে রুশো ভীষণ খুশি হয়ে গেল। তার চোখে মুখে ফুটে উঠল নিখাদ আনন্দ।
শপের ওনার এগিয়ে এসে রূপকথাকে অভিবাদন জানিয়ে বলল,
“ম্যাম, কী প্রয়োজন বলুন আমাকে?”
রূপকথা শান্ত স্বরে বলল,
“রুশো যা চায়, সবকিছু দিয়ে দিন। আমি পেমেন্ট করে দিচ্ছি।”
“জি ম্যাম।”
রুশো প্রায় সবকিছুই নিয়ে নিয়েছে। এত কিছু দেখে রূপকথা মৃদু হাসল। তার হাতে তখন রুশোরই ব্যাংক কার্ড।
সে এগিয়ে গিয়ে বলল,
“অনেক হয়েছে রুশো, এবার থামুন। এগুলো নেই, পরে আবার নেব।”
রুশো শিশুসুলভ ভঙ্গিতে বলল,
“ওকে টুইঙ্কেল, তুমি রুশোকে আইসক্রিম দিবে?”
রূপকথা হেসে বলল,
“হ্যাঁ। আপনি এখানে লক্ষ্মী বাচ্চার মতো বসুন। আমি পেমেন্ট করে আসছি।”
“ওকে।”
রুশো সেখানে বসে রইল। রূপকথা সবকিছুর বিল করতে কাউন্টারের দিকে গেল।
এমন সময় রুশোর কাছে এসে দাঁড়াল রায়হান।
রায়হানকে দেখে রুশো একটু সরে বসল। রায়হান মৃদু হেসে রুশোর পাশে বসে বলল,
“রুশো, রূপকথা বলেছে তোমাকে নিয়ে যেতে।”
রুশো সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল।
“না না, টুইঙ্কেল বলেছে আমাকে এখানে বসে থাকতে।”
রায়হান আবার বলল,
“না রুশো, সত্যি বলছি। রূপকথা আমাকে বলেছে তোমাকে নিয়ে যেতে। বাইরে রূপকথা বিপদে পড়েছে। তুমি যাবে না রূপকথাকে বাঁচাতে?”
রূপকথা বিপদে পড়েছে শুনে রুশোর শিশুমনটা মুহূর্তেই আতঙ্কে কেঁপে উঠল। সে তড়াক করে উঠে দাঁড়াল। তারপর কোনো কিছু না ভেবেই দৌড়ে বাইরে চলে গেল।
রায়হান রুশোকে বের হতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে কাউকে কল করল। তারপর নিজেও সবার চোখের আড়াল হয়ে শপ থেকে কেটে পড়ল।
বিল পেমেন্ট করতে বেশ অনেকটা সময় লেগেছে। রুশো এতগুলো জিনিস নিয়েছে যে সবগুলোর বিল ঠিক করতেই অনেক সময় চলে গেল।
রূপকথা টোটাল বিল দেখে টাকা পেমেন্ট করতে যাবে, এমন সময় বাইরে থেকে হঠাৎ সোরগোল শোনা গেল। যেন কেউ এক্সিডেন্ট করেছে।
রূপকথা চমকে ফিরে তাকাল। দ্রুত এগিয়ে এসে দেখল, যেখানে রুশোকে বসিয়ে এসেছিল, সেখানে রুশো নেই।
রূপকথা ভয়ে জমে গেল।
তার ভেতরটা অকারণে কেঁপে উঠল। বুকের ভেতরে অজানা আশঙ্কা কু ডাকতে লাগল।
রূপকথা দ্রুত পায়ে শপ থেকে বেরিয়ে এল। বাইরে এসে দেখল অনেকগুলো মানুষ কাউকে ঘিরে রেখেছে।
কাঁপা পায়ে ভিড় ঠেলে সে সামনে এগিয়ে গেল।
তারপর সামনে তাকিয়ে দেখল…
চলবে?
