Bangla Romantic Golpo | সুইটহার্ট | পার্ট-৪
সকাল সকাল ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে মেহরিন। বিছানার উপর…
সকাল সকাল ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে মেহরিন। বিছানার উপর এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে বই-খাতাসহ বেশ কিছু পোশাক। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কানে দুল পরতে পরতে নিজের চুলগুলো ঠিক করছিলো সে। ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলেন সুফিয়া বেগম।মেহরিন আয়নার প্রতিফলনে মাকে দেখতে পেয়ে কপাল কুঁচকে নিলো।
—কি ব্যাপার? সকাল সকাল আমার রুমে?
সুফিয়া বেগম ধীর পায়ে এসে বিছানার উপর বসলেন। খানিকসময় মেয়েকে পরখ করে বললেন—-
—ভার্সিটি যাচ্ছিস?
ঠোঁটে লিপস্টিক লাগাতে লাগাতে উত্তর দিলো মেহরিন—-
—হুম। কিছু বলবে?
সুফিয়া বেগম কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললেন—-
—আজ যেতে হবে না। বাসায় থাক।
মুহূর্তেই হাত থামিয়ে দিলো মেহরিন।
—কেনো?
—বাড়িতে মেহমান আসবে।
মেহরিন ঘুরে দাঁড়ালো। পানির গ্লাস হাতে তুলে তা পান করতে করতে বললো—-
—মেহমান আসবে তো কি হয়েছে? আমি ভার্সিটি যাবো।
—আজকে তোকে দেখতে পাত্রপক্ষ আসবে।
কথাটা শুনে ঠিক যেই মুহূর্তে পানি খেতে যাচ্ছিলো মেহরিন, সেই মুহূর্তেই বিষম খেয়ে কাশতে শুরু করলো।
—খক! খক! খক!
সুফিয়া বেগম বিরক্ত হয়ে পানির গ্লাস নামিয়ে মেয়ের পিঠে চাপড় মারতে শুরু করলেন। কয়েক সেকেন্ড কেটে গেলে পুনরায় পানির গ্লাস হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন—-
—ধীরে খা।
মেহরিন কাঁপা হাতে গ্লাসটা নামিয়ে রাখলো। তার শরীর কাঁপছে। মায়ের কথায় মাথা ঘুরছে কেমন? পাত্র! তাকে দেখতে আসবে আজ? মেহরিন চোখ কচলে পুনরায় মা’কে বললো—-
—কি বললে তুমি?
—পাত্রপক্ষ আসবে।
—কেনো আসবে?
—তোকে দেখতে।
—কেনো দেখতে?
—বিয়ে করার জন্য!
মেহরিন এমন মুখ করলো যেন পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর খবরটা শুনেছে। সে মায়ের হাত ধরে বলে উঠলো—
—না।
—মানে?
—মানে না।
—কি না?
—বিয়ে না।
—কেনো?
—কারণ আমি বিয়ে করছি না।
সুফিয়া বেগম চোখ পাকালেন। মেয়ের হাত ছেড়ে বিরক্ত বদনে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইলেন। পরিস্থিতি খানিক গম্ভীর হয়ে পরলো। সুফিয়া বেগম চোখমুখ খিঁচে বললেন—–
—তোকে কেউ জিজ্ঞেস করেছে?
মেহরিন কাঁদো কাঁদো মুখে চট করে উত্তর করলো—-
—অবশ্যই করবে! বিয়ে আমার, মতামতও আমার!
—বেশি কথা বলিস না।
—আমি বিয়ে করবো না।
—করবি।
—করবো না।
—করবি।
—করবো না।
—করবি।
—না!
—হ্যাঁ!
—না!
—হ্যাঁ!
—না মানে না!
মেহরিনের কথায় শেষমেশ বিরক্ত হয়ে মাথায় হাত দিলেন সুফিয়া বেগম। এই মেয়ে যে সোজা কথা শোনার মানুষ না তা তিনি জানেন।
—আল্লাহ! এই মেয়েকে নিয়ে আমি কি করি!
মেহরিন দুই হাত কোমড়ে রেখে দাঁড়িয়ে রইলো।
—দেখো মা, আমি এখনো পড়াশোনা করছি। এখন আমার বিয়ে-টিয়ে করার কোনো ইচ্ছা নেই।
সুফিয়া বেগম বোঝানোর ভঙ্গিতে বললেন—-
—ওরা শুধু দেখতে আসবে।
মেহরিন চোখমুখ কুঁচকে নিলো।
—আমি কি জাদুঘরের কোন মূল্যবান পাথর অথবা হীরে-জহরত? যে ওরা আমায় পরিদর্শন করে আসবে? দেখতে দিবো না আমাকে।
—দিবি।
জেদ ধরে বসে মেহরিন।
—দিবো না।
—দিবি।
—না!
—হ্যাঁ!
সুফিয়া বেগম এবার সত্যি সত্যিই রেগে গেলেন। চিৎকার করে বলে উঠলেন—-
—আমি কোনো কথা শুনতে চাই না। দুপুরের মধ্যে তৈরি হয়ে থাকবি।
কথাটা বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন তিনি।
মেহরিন হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।কয়েক সেকেন্ড পর ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো সে। কপালে বিরক্তির ছাপ
—ইয়া আল্লাহ! এরা আমারে বেঁচে দিচ্ছে! আমি কি এত’ই বেশি খেতাম? দিনে তো মাত্র সাত’বার’ই ভাত খাই। বেশি এটা?
মাথার চুল খামচে ধরলো মেহরিন। বিড়বিড় করে বললো আরো অনেক কথা। এরমধ্যেই ফোন বেজে উঠলো তার৷ ভাবনার জগত থেকে ছিটকে বেড়িয়ে এলো রমনী। তাকালো স্ক্রিনে ভেসে উঠা নাম্বারটার পানে। শিফা কল দিয়েছে বুঝতে পেরেই চট করে হাত বাড়ালো ফোনের পানে। কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে চিৎকার ভেসে এলো—-
—এই মেহু! কোথায় তুই?
মেহরিন ফোন খানিকটা আলগা করলো কান হতে। অতঃপর হতাশার স্বরে আওড়ালো—-
—আমার জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে রে।
ওপাশে শিফা কপাল কুঁচকে নিলো। কপালে স্লাইড করতে করতে জানতে চাইলো—-
—আবার কি হলো?
মেহরিন মুখখানা কুঁচকে উত্তর করলো—-
—পাত্র আসবে।
দুই সেকেন্ড নীরবতা কাটলো দু’বান্ধবীর মধ্যে।
তারপর—-
—কিহহহহহহ?
শিফার চিৎকারে ফোনটা কান থেকে সরিয়ে নিলো মেহরিন। দাঁতে দাঁত চেপে বললো—-
—চিল্লাস না।
—পাত্র আসবে মানে?
—আমাকে দেখতে।
—তুই রাজি?
—না।
—আন্টি?
—হ্যাঁ।
—আঙ্কেল?
—হ্যাঁ।
শিফা হতাশ হয়ে বললো—-
—তাহলে তুই শেষ।
—ধন্যবাদ।
গম্ভীর গলায় বললো মেহরিন। শিফা খিলখিল করে হেঁসে উঠলো। অতঃপর বললো—–
—শোন, ভার্সিটিতে যাস না।
—যাবো না?
—না।
—তাহলে?
—বিউটি পার্লারে যাবি।
শিফার কথায় মেহরিনের চোখ জোড়া বড়বড় হয়ে এলো। একেই পাত্রের চিন্তায় মাথা খারাপ হচ্ছে এ আবার বিউটি পার্লারের কথা বলছে? মাথা ঠিক আছে শিফার? মেহরিন কপাল কুঁচকে নিলো। বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে বললো—
—কি বলছিস? মাথা ঠিক আছে?
—হ্যাঁ। যা বলছি ভেবেই বলছি। দেখ তোর মা-বাবা যখন বলছে পাত্র আসবে তাহলে আসবেই। তুই আটকাতে পারবি না। কিন্তু পাত্র যদি আসেই তাহলে তোকে সুন্দর দেখাতে হবে না? তোরও তো একটা প্রেস্টিজ আছে বল!
মেহরিন মাথা চুলকাতে লাগলো শিফার কথায়। বান্ধবী তার খুব একটা ভুল কিছু বলেনি। সে বিয়ে করুক বা না করুক, পাত্রের সামনে তো তাকে সুন্দরী দেখাতেই হবে৷ নইলে প্রেস্টিজের কি হবে তার?
কথাগুলো ভাবতে গিয়ে মেহরিন নিজের দিকে তাকালো। চুলগুলোও কেমন দেখাচ্ছে, আর মুখটা? নাহ্, তাকে যেতে হবে।
মেহরিন চুপ করে আছে বলে বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে শিফায় বললো—-
—আধা ঘন্টার মধ্যে রেডি হয়ে নিচে নাম।
মেহরিন নিচু স্বরে হ্যাঁ বলে ফোনটা নামিয়ে রাখলো। প্রায় চল্লিশ মিনিট পর বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো শিফা। শাওন নিজেও রেডি হয়ে নিচে নামলো। বেচারার মুখটা শুকিয়ে গেছে মেহরিনের বিয়ে হয়ে যাওয়ার কথা শুনে৷
মেহরিন নিচে নামতেই শিফার পানে চেয়ে মৃদু হাসলো। অতঃপর তিনজন একসাথে বেরিয়ে পড়লো বিউটি পার্লারের উদ্দেশ্যে।।
প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিউটি পার্লার থেকে বেরিয়ে এলো তিনজন। মেহরিন বারবার মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরায় নিজের মুখ দেখছে। চুলগুলো বেশ সুন্দর করে সেট করা হয়েছে। মুখেও হালকা মেকআপ। শিফা গর্বিত ভঙ্গিতে বললো—-
—দেখেছিস? আমি না থাকলে তোর কি অবস্থা হতো?
মেহরিন ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো—-
—হুম, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতো।
—অবশ্যই।
শাওন দুইজনের কথোপকথন শুনে বিরক্ত মুখে বললো—-
—তোরা দুইজনই নিজেই নিজের ফ্যান।
—তোর সমস্যা?
একসাথে বলে উঠলো শিফা আর মেহরিন।
শাওন সঙ্গে সঙ্গে চুপ মেরে গেলো। তিনজন রাস্তার পাশে এসে রিকশার জন্য দাঁড়ালো।দুপুরের রোদটা বেশ কড়া। মাঝেমধ্যে দু-একটা রিকশা গেলেও সবগুলোতেই যাত্রী বসা। মেহরিন বিরক্ত হয়ে বললো—-
—আজকেই সব রিকশা উধাও হয়ে গেলো?
ঠিক তখনই তাদের সামনে এসে ধীরে ধীরে থামলো একটি কালো গাড়ি। গাড়িটা দেখেই কেন জানি বুকটা ধক করে উঠলো মেহরিনের। পরের মুহূর্তেই গাড়ি গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এলো আদ্রিয়ান। কপাল কুঁচকে আছে তার। ভার্সিটি’ই গিয়েছিলো। তবে জরুরি একটা কাজ পরে যাওয়া সেখান থেকে বেড়িয়ে এসেছে সে। আর এখন পথিমধ্যে মেহরিনদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিজেও থেমে গেলো।
আদ্রিয়ানকে দেখে মেহরিনের মুখের রঙ মুহূর্তেই উধাও। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এলো শুকনো ঢোক গিলে ফিসফিস করে বললো—-
—ইয়া আল্লাহ!
শিফা আর শাওনও থমকে গেলো পুরুষটিকে দেখে। শিফা মাথায় হাত দিলো। ভার্সিটি না গিয়ে যে এখানে এসেছে তা বুঝতে পারলে এই রাগি স্যার নিশ্চয়ই পানিশমেন্ট দিবেন। তখন কি হবে?
আদ্রিয়ান গাড়ি থেকে নেমে তিনজনের দিকে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে নিলো। গম্ভীর গলায় বললো—-
—ভার্সিটির সময় এখানে কি করছো তোমরা?
কেউ উত্তর দিলো না তার শক্ত কন্ঠে।আদ্রিয়ান পুনরায় বললো—-
—আমি কিছু প্রশ্ন করেছি।
মেহরিন শুকনো ঢোক গিললো। বললো—
—ইয়ে….মানে স্যার,আসলে…
—কি আসলে?
মেহরিন কাঁদো কাঁদো মুখে শিফার পানে তাকালো। সেও মুখ লুকাচ্ছে ভয়ে। মেহরিন আদ্রিয়ানের দিকে ফিরে চোখে চোখ রাখতে চাইলো। তবে পারলো না। হাত পা কেমন ঠান্ডা হয়ে আসছে। মেহরিনের মাথা তখন প্রচণ্ড গতিতে সলিড একখানা অজুহাত খুঁজছে।
— অ্যান্সার মি, ইডিয়ট!
—স্যার… আসলে শিফার নানি মারা গেছে।
আদ্রিয়ানের ধমকে হুট করেই মুখ ফসকে কথাখানা বলে ফেললো মেহরিন। কথাটা বলে নিজে নিজেই থমকে গেলো সে। শিফা-শাওনও থমকে গেলো তার কথায়।
তিনজনই কয়েক সেকেন্ড পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইলো। অন্যদিকে আদ্রিয়ানের ভ্রু ধীরে ধীরে উপরে উঠলো। সে শিফার দিকে তাকালো। কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো—–
—তোমার নানি মারা গেছেন?
শিফা পাথরের ন্যায় ধীরে ধীরে মেহরিনের দিকে তাকালো। তা দেখে মেহরিন এমনভাবে চোখ বড় করলো যেন এখন না বললে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। শিফা মেহরিনের ভয়ার্ত মুখ দেখে মনে মনে একশো একটা গালি ছুঁড়লো। তাকেই কেনো বলির পাঠা হতে হলো ভেবে বড্ড কান্না পেলো।
—কি হলো? কিছু জিজ্ঞেস করেছি আমি।
পুনরায় আদ্রিয়ানের ধমকে শিফা তড়িঘড়ি মাথা নেড়ে বললো—-
—জি… স্যার।
—কখন?
শিফা থতমত খেলো। এখন কি বলবে?
—এই তো… মানে…
—আজ সকালে।
শিফা উত্তর করার আগেই দ্রুত বলে উঠলো মেহরিন। আদ্রিয়ানের দৃষ্টি এবার সরাসরি মেহরিনের উপর স্থির হলো।
—আজ সকালে?
—জি।
—কয়টায়?
এবার পুরোপুরি আটকে গেলো মেহরিন। একটা মিথ্যা বলতে গিয়ে যে দশটা মিথ্যা বলতে হবে তা বুঝতে আর বাকি রইলো না। মেহরিন কাঁপা গলায় বললো—-
—ক…কয়টায় মানে?
—মারা যাওয়ার সময় ক’টা?
শাওন মুখ ফিরিয়ে হাসি চেপে রাখতে লাগলো পরিস্থিতি দেখে। তা দেখে মেহরিন দাঁতে দাঁত চেপে শাওনের দিকে তাকালো।অন্যদিকে আদ্রিয়ান আবার বললো—-
—হাসপাতালে মারা গেছেন?
উত্তর করলো শিফা—
—জী।
—কোন হাসপাতালে?
শিফা চোখ বন্ধ করে মনে মনে কালেমা পড়তে শুরু করলো একের পর এক প্রশ্ন দেখে।
মেহরিন কপাল মুছলো ভয়ে। অন্যদিকে আদ্রিয়ানের সন্দেহ আরও বেড়ে গেলো।
—আচ্ছা, নাম কি তোমার নানির?
এই প্রশ্ন শুনে তিনজনেরই মাথা ফাঁকা হয়ে গেলো। শিফা তো নিজের নানির আসল নামও মনে করতে পারছে না এই মুহূর্তে।
আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি টানলো। তাদের নিরবতা দেখে বললো—-
—মজার ব্যাপার তো।
মেহরিন কাঁপা গলায় বললো—-
—ক…কি?
—নানি মারা গেছেন, কিন্তু তোমাদের কারোর মুখে দুঃখের ছিটেফোঁটাও নেই। নানির নামও বলছো না।
তিনজন একসাথে গিলে ফেললো শুকনো ঢোক। আদ্রিয়ান এবার দুই হাত গুটিয়ে দাঁড়ালো।
—আরেকটা প্রশ্ন।
—জি?
—শিফার নানি মারা গেছেন। তাহলে বিউটি পার্লরের সামনে কেনো তোমরা? আবার মেক-আপও করেছো দেখছি!
পুরো পৃথিবী যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গেলো এই প্রশ্নে। মেহরিন, শিফা আর শাওন একে অপরের মুখের দিকে তাকালো। ধরা খেয়ে গেছে বুঝতে পারলো বেশ। এখন? এখন কি হবে তাদের? কে বাঁচাবে?
আদ্রিয়ান শান্ত কণ্ঠে ফের বললো—-
—এখন সত্যিটা বলবে? নাকি আমি আরও প্রশ্ন করবো?
তিনজন আবার একে অপরের দিকে তাকালো। কাঁদো কাঁদো মুখ করে একে অপরের মনের কথা আদান-প্রদান করলো। অতঃপর চিৎকার করে এক সঙ্গে বলে উঠলো—-
—দৌড়!
পরের মুহূর্তেই তিনজন তিন দিক দিয়ে ছুট লাগালো। কে কোথায় পরে মর*বে সেদিকে তাদের কোন খেয়াল নেই।
—এই!
আদ্রিয়ান হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো। মেহরিন ওড়না সামলাতে সামলাতে দৌড়াচ্ছে।
শিফা চিৎকার করছে—-
—আমি এমন বন্ধু আর জীবনে বানাবো না! মেহু, তোর সাথে ব্রেকআপ।
শাওন হাঁপাতে হাঁপাতে বলছে—-
—আমার তো কোনো দোষই ছিল না! তাহলে আমি কেনো ফল ভোগ করছি?
তারা তিনজন মুহূর্তেই চোখের আড়াল হয়ে গেলো। অন্যদিকে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আদ্রিয়ান কয়েক সেকেন্ড নির্বাক হয়ে তাদের পালানো দেখলো। সে ভাবতেই পারেনি এই তিনটে এতোটা খাটাশ। তাহলে কি আর পালানোর সুযোগ দিতো?
চলবে……..

