Bangla Romantic Golpo | সুইটহার্ট | পার্ট-১
দুষ্টমি করে প্রফেসরকে মেসেজ পাঠালো মেহরিন ‘হেই হ্যান্ডসাম! আই লাভ…
দুষ্টমি করে প্রফেসরকে মেসেজ পাঠালো মেহরিন ‘হেই হ্যান্ডসাম! আই লাভ ইউ। অতঃপর ফোন রেখে খিলখিল করে হেঁসে উঠলো। ঢলে পরলো বিছানায়। ইনি মেহরিনের ভার্সিটির নিউ ইংলিশ প্রফেসর। প্রথম দিন’ই দেরি করে যাওয়ায় এক ঘন্টা যাবৎ বাহিরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলো তাকে। আর আজ মেহরিন তার’ই প্রতিশোধ নিবে বলে ঠিক করলো। এই স্যারকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে উচিত শিক্ষা দিবে সে। কিছুতেই ছাড়বে না এহেন খাটাশ স্যারকে।
সাথে মেহরিনের ভয়ও হতে লাগলো এই ভেবে যে স্যার এখন কি রিপ্লাই দিবে তাকে! স্যার তাকে যদি চিনে নেয় তখন?
মেহরিন দ্রুত বসা হতে উঠে পরলো। ফোনখানা হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো রিপ্লাই পাওয়ার৷ যদি চিনে ফেলে বকা দেয় তখন? এই ভেবে মাথা খারাপ হতে লাগলো মেয়েটার। ইশশ্, এতো চিন্তা হচ্ছে কেনো তার?
এরমধ্যেই ফোনে টুং করে আওয়াজ আসলো। সে তড়িঘড়ি করে ফোনটা সামনে ধরতেই বিস্ময়ের হা হয়ে গেলো তার মুখখানা। মেসেজে লেখা—-
—ঘুমিয়ে পরো সুইটহার্ট, অনেক রাত হয়ে গেছে। বেশি রাত জেগে থাকলে তো তোমার স্কিনে ডার্ক সার্কেলস পরে যাবে। তাই ঘুমিয়ে যাও, লেট করো না। উম্মাহ্।
মেহরিনের হাত থেকে ফোনখানা নিঃশব্দে পরে গেলো। সে তীব্র অবিশ্বাস নিয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো পাথরের ন্যায়। সবকিছু মাথার উপর দিয়ে গেলো তার।
আচ্ছা! আদ্রিয়ান স্যার কি তাকে চিনে ফেললো? আর তাই জন্যই এভাবে কথা বললেন তিনি?
মেহরিন নিজের মাথার চুলগুলো খামচে ধরলো দু’হাতে৷ অতঃপর ধপ করে বিছানায় শুয়ে পরলো। টেনশনে হাত পা ঠান্ডা হয়ে এলো তার। কাল ভার্সিটি গেলে কি হবে সেই চিন্তায় মাথা খারাপ হতে লাগলো।
————————
পরেরদিন ভার্সিটির গেটে পা রাখতেই বুকের ভেতরটা ধুকপুক করে উঠলো মেহরিনের। গত রাতের ঘটনাটা মনে পড়তেই হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এলো। ফোনটা ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে নিয়ে দ্রুত হাঁটতে লাগলো সামনের দিকে।
—আজকে যদি স্যার কিছু বলে?
নিজের মনেই বিড়বিড় করলো মেহরিন। করিডোরে পা রাখতেই দূর থেকে আদ্রিয়ান স্যারকে দেখতে পেলো সে। কালো শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো, হাতে কয়েকটা ফাইল। তাকে দেখামাত্রই থমকে দাঁড়িয়ে গেলো মেয়েটা।।
তার মনে হলো, এখনই বুঝি ডেকে বলবেন—-
—হেই সুইটহার্ট!
কিন্তু না। আদ্রিয়ান স্যার একবারও তার দিকে তাকালো না। সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো সে। মেহরিন হতভম্ব হয়ে তার চলে যাওয়া দেখতে লাগলো। ধীর গলায় বললো—-
—কি ব্যাপার?
কথাটা বলেই নিজের গাল নিজেই টিপে দেখলো সে।
—স্যার কি তাহলে চিনতেই পারেননি আমায় নাকি চিনেছেন, কিন্তু কিছু বলছেন না যে?
কথাখানা ভাবতে ভাবতেই সামনের দিকে পা বাড়ালো সে। ক্লাস শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে সিটে গিয়ে বসলো। অথচ পুরো সময়টাতে তার চোখ ছিল দরজার দিকে। অলস ভঙ্গিতে প্রথম ক্লাসটা করেই অপেক্ষা করতে লাগলো আদ্রিয়ান স্যারের। এর কয়েক মুহূর্ত বাদেই আদ্রিয়ান স্যার প্রবেশ করলেন ক্লাসে।
—গুড মর্নিং, এভরিওয়ান।
—গুড মর্নিং, স্যার।
সবাই একসাথে উত্তর দিলো। আদ্রিয়ান উপস্থিতি নেওয়া শুরু করলো। একে একে সবার নাম ডাকলো। মেহরিন স্তব্ধ হয়ে দেখতে লাগলো আদ্রিয়ানকে। ঠিক তখনি তার কানে ভেসে এলো—
—মেহরিন তাসনিম?
আদ্রিয়ানের কন্ঠে কেঁপে উঠলো মেহরিন। পাশে বসে থাকা তার বান্ধবী শিফা ধাক্কা মারলো মেহরিনকে। সম্বিত ফিরে পেতেই কাঁপা গলায় বললো—
—জি… স্যার।
আদ্রিয়ান খাতায় টিক দিয়ে একবার মেহরিনের পানে চাইলো। তার তীক্ষ্ণ চাহুনিতে মেহরিনের বুকটা কেঁপে উঠল। তবে একপলক তাকিয়েই চোখ ফিরিয়ে নিলো আদ্রিয়ান। আবার পরের নাম ডাকতে শুরু করলো সে। না কোনো অতিরিক্ত দৃষ্টি, না কোনো ইঙ্গিত, না কোনো ব্যঙ্গ। যেন গত রাতে কিছুই ঘটেনি। আর এটাই মেহরিনের অস্থিরতা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিলো। কারণ যদি আদ্রিয়ান রেগে যেতো, বকা দিতো, তাহলে অন্তত বুঝতো কি হচ্ছে।
কিন্তু এই অস্বাভাবিক আচরণটাই যেন সবচেয়ে ভয়ংকর মনে হলো মেহরিনের কাছে। ক্লাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ আদ্রিয়ান গম্ভীর গলায় বলে উঠলো—–
—মিস মেহরিন, আপনি দাঁড়ান।
গমগমে কন্ঠস্বরের ডাকটায় বুকটা ধড়াস করে উঠলো মেহরিনের। পায়ে জোড় পেলো না এক বিন্দুও। তবুও চোখমুখ খিঁচে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো মেয়েটা। বুকটা তার কাঁপছে অজানা আশংকায়। আদ্রিয়ান কয়েক সেকেন্ড মেহরিনের পানে তাকিয়ে থেকে সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত কণ্ঠে বললো—
—গতকালের দেওয়া হোমওয়ার্ক?
মেহরিন কয়েক সেকেন্ড বোকার মতো তাকিয়ে রইলো। সে ভাবতেও পারেনি এটার জন্য আদ্রিয়ান তাকে ডেকেছে। সে ভেবেছিলো গতরাতের ব্ল্যান্ডার নিয়ে অপমান করবে তাকে। যা-ইচ্ছে তা বলে কথা শোনাবে। অথচ এটা কি হলো?মেহরিন মাথা চুলকে বিড়বিড় করে বললো—
—এই জন্য ডাকলেন আমায়? শুধু এটুকুই? আর আমি সারারাত ভেবে মরেছি! তিনি তারমানে সত্যিই চিনতে পারেননি আমায়।
মেহরিন স্বস্তির নিশ্বাস টানলো। কিন্তু ঠিক তখনই আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ একটা হাসি ফুটে উঠলো। যা নজর এড়ালো না মেহরিনের। আদ্রিয়ানের ঠোঁটে বাঁকা হাসি দেখে বুকটা কেঁপে উঠল মেয়েটার। সে দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নিলো। কনফিউজড হয়ে থ মেরে রইলো।
মেহরিন ঠোঁট নাড়ালো কিছু বলার জন্য। অন্যদিকে আদ্রিয়ান আবারও স্বাভাবিক হয়ে গেলো। একদম গম্ভীর মুখশ্রী করে নিলো নিজের। আর মেহরিনের মাথায় তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগলো—
—তিনি কি সত্যিই কিছু জানেন না… নাকি সবকিছু জেনেও খেলাটা উপভোগ করছেন?
ক্লাস শেষে মেহরিন বেড়িয়ে এলো রূম থেকে। প্রচন্ড গরমে বেহাল দশা তার। চোখমুখ ঘেমে একাকার। তবে করিডোর পেড়িয়ে যেতেই হুট করেই কারো শক্ত হাতের বাঁধন অনুভব করলো নিজের কোমড়ে। মেহরিন থমকে গেলো সেই শীতল ছোঁয়ায়। চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো তীব্র আতঙ্কে। পরবর্তী পর্ব আগে আমার পেজে দেওয়া হবে
সে চোখ মেললো তখন, যখন নাকে ধরা দিলো পারফিউম এর কড়া ঘ্রান। আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকাতেই ভয়ে গুটিয়ে গেলো মেয়েটা। কেননা তখন সে করিডোরে না, বরং অন্ধকার আচ্ছন্ন একটা ঘরে পৌঁছে গেছে। যেটা করিডোরের সাথে লাগোয়া।
মেহরিনের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলো। ছটফট করতেই খেয়াল করলো কেউ তার গা ঘেঁসে দাঁড়িয়ে আছে। কারো বলিষ্ঠ দেহ ভাড় ছেড়েছে তার উপর। মেহরিন ঘামতে লাগলো ভয়ে৷ নড়তে চাইলো সে, তবে পারলো না। ভয়ে ভয়ে বলে উঠলো—-
—কে…কে?
ওপাশ থেকে ভেসে এলো হিসহিসানো কন্ঠ—-
—ইট’স মি, সুইটহার্ট।
চলবে…….

