Bangla Romantic Golpo | সুইটহার্ট | পার্ট-৫
Bangla Romantic Golpo — সুইটহার্ট — পার্ট-৬ — মোনালিসা মেহরোজ…
Bangla Romantic Golpo — সুইটহার্ট — পার্ট-৬ — মোনালিসা মেহরোজ
পাত্রপক্ষ চলে যাওয়ার পরের তিনটা দিন যেন চোখের পলকেই কেটে গেলো। তবে এই তিনদিনে একটা কাজও করেনি মেহরিন, শিফা আর শাওন। ভার্সিটিতে যায়নি। কারণ? আদ্রিয়ান।
লোকটাকে দেখলেই এখন বুকের ভেতর ধুকপুকানি শুরু হয়ে যায় তাদের। বিশেষ করে সেই বিউটি পার্লারের ঘটনার পর থেকে আদ্রিয়ানের সামনে যেতে পারে না তারা। আদ্রিয়ান যে তাদের মিথ্যা ধরে ফেলেছে সেটা বুঝে ফেলেছিলো সকলে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
তাই প্রথম দিন মেহরিন জ্বরের অজুহাত দিয়ে ভার্সিটি গেলো না।দ্বিতীয় দিন মাথা ব্যথা। তৃতীয় দিন পেট ব্যথা।চতুর্থ দিনে এসে মনোয়ার শেখ ঘোষণা দিলেন—-
—কাল থেকে নিয়মিত ভার্সিটি যাবি। আর কোনো অজুহাত শুনবো না।
ব্যস! সব রাস্তা বন্ধ এখানেই বন্ধ হয়ে গেলো।
পরদিন সকালেই গোমড়া মুখে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো তিনজন। শাওনের অ্যাডমিশন এই ভার্সিটিতে’ই করেছেন মনোয়ার শেখ।
ভার্সিটির গেটের সামনে এসে নামতেই মেহরিন দীর্ঘশ্বাস ফেললো। শিফার দিকে তাকিয়ে করুণ গলায় বললো—-
—আমার মনে হচ্ছে আজকে আমি শহীদ হয়ে যাবো।
—আমিন।
গম্ভীর মুখে বললো শাওন। কপাল কুঁচকে নিলো মেহরিন।
—দোয়া করছিস নাকি বদদোয়া দিচ্ছিস?
—দুইটাই।
দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো মেহরিন। শিফা বিরক্ত মুখে বললো—-
—তোরা দুইজন চুপ কর।
কথাটা বলে তিনজন গেটের ভেতরে পা রাখতেই আচমকা থমকে গেলো। কয়েক হাত দূরেই দাঁড়িয়ে আছে আদ্রিয়ান। কালো শার্ট তার বলিষ্ঠ দেহে। হাতে ধরা মোটা একখানা ফাইল।
আর তার ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত একটা হাসি।
মেহরিনের প্রাণটা যেন হাঁটুতে নেমে গেলো। ফিসফিস করে আওড়ালো—-
—ইয়া আল্লাহ…
শিফা বিড়বিড় করে বললো—-
—আমি কি এখনই অজ্ঞান হয়ে যাবো?
—যা, আমি ভিডিও করবো।
উত্তর দিলো শাওন। পরিস্থিতি হুট করেই গম্ভীর হয়ে পরলো। তাদের দেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো আদ্রিয়ান। এক ভ্রু তীরের ন্যায় উঁচিয়ে বললো—-
—অবশেষে।
আদ্রিয়ানের কথায় তিনজন’ই চুপ করে রইলো। কারণ কথা বলার ভাষা বা শক্তি—এখন আর তাদের নেই।
—ভেবেছিলাম আর আসবে না।
আদ্রিয়ান আবারো বললো। তবে মেহরিন, শিফা,শাওন পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইলো শুধু। চোখদুটো কোটর ছেড়ে বেড়িয়ে আসার উপক্রম। আদ্রিয়ান দুই হাত গুটিয়ে দাঁড়ালো। খোঁচা খোঁচা দাঁড়ির আড়ালে তার বাঁকা হাসি সুস্পষ্ট। সেদিন পালিয়ে যাওয়ার পর অনেকবার খেয়াল করেছে আদ্রিয়ান—যে মেহরিনরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে তার থেকে। আর তাই তো দূর হতে তাদের আসতে দেখে শিক্ষা দেবে বলে এগিয়ে এলো।
আদ্রিয়ান মুখ গম্ভীর করে নিলো৷ কর্কশ গলায় বললো—–
—তিনদিন কোথায় ছিলে?
মেহরিন দ্রুত উত্তর দিলো—-
—আমি অসুস্থ ছিলাম।
—কি হয়েছিলো?
—অনেক কিছু।
—যেমন?
—অনেক অনেক কিছু।
ভ্রু উঁচু করলো আদ্রিয়ান। তারপর শিফার দিকে তাকালো।
—তুমি?
—আমি ওর দেখাশোনা করছিলাম।
—তিনদিন?
—জি।
এবার শাওনের দিকে তাকালো আদ্রিয়ান। কপাল কুঁচকে বললো—-
—আর তুমি? তুমিও তো এখানেই অ্যাডমিশন নিয়েছো, তাহলে আসো নি কেনো?
শাওন কয়েক মুহূর্ত ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো মাত্র। অতঃপর কয়েক সেকেন্ড অতিবাহিত হওয়ার পর আত্মবিশ্বাসের সাথে বললো—-
—আমি নৈতিক সমর্থন দিচ্ছিলাম।
মুহূর্তেই কপাল কুঁচকে গেলো আদ্রিয়ানের।
—নৈতিক সমর্থন?
—জি।
কয়েক সেকেন্ড তিনজনের দিকে তাকিয়ে রইলো আদ্রিয়ান। তারপর কপাল কুঁচকে গম্ভীর গলায় বললো—-
—তোমরা তিনজন কি আমাকে বোকা ভাবো?
তিনজনই একসাথে মাথা নাড়লো।
—না স্যার।
—মিথ্যা।
—না স্যার।
—মিথ্যা কথা।
এবার তিনজনই চুপ মেরে গেলো। আদ্রিয়ান কিছু একটা বলতে যাবে, ঠিক তখনই আচমকা মেহরিন পেট চেপে ধরলো।
—আহ্!
চমকে উঠলো শিফা।
—কি হলো?
—আমাকে… আমাকে ওয়াশরুমে যেতে হবে।
কথাটা বলেই কুঁকড়ে গেলো মেহরিন। চোখমুখ কুঁচকে একাকার অবস্থা তার। আদ্রিয়ান সন্দেহভরা চোখে তাকালো সেদিকে। এই মেয়ে কি অভিনয় করছে তার সামনে?
—স্যার! ওয়াশরুমে যাবো।
—এখন?
—জি স্যার।
—পাঁচ মিনিট পর, আগে আমার কাজটা সেরে নেই!
—না স্যার! একদম এখনই যেতে হবে!
আদ্রিয়ান কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো। তার সন্দেহ হচ্ছে। খুবই হচ্ছে। কিন্তু এই বিষয়ে আর প্রশ্ন করা যায় না। শেষমেশ বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে বললো—-
—যাও।
—থ্যাংক ইউ স্যার!
কথাটা বলেই প্রায় দৌড়ে চলে গেলো মেহরিন।
আদ্রিয়ান তার চলে যাওয়া দেখতে লাগলো।
শিফা আর শাওনও দাঁড়িয়ে রইলো মেহরিনের আশায়। এভাবেই এক মিনিট, দুই মিনিট, পাঁচ মিনিট, দশ মিনিটের ঘরে এসে উপনীত হলো সময়। তবে মেহরিনের কোনো খবর নেই।
আদ্রিয়ানের চোখ সরু হয়ে এলো। শিফা, শাওনকে উদ্দেশ্য করে বললো—-
—কোথায় গেলো ও?
শিফা কাঁপা গলায় বললো—-
—ওয়াশরুমে।
—এতক্ষণ?
শাওন শুকনো ঢোক গিললো। ঠিক তখনই ক্যাম্পাসের পেছনের দিক থেকে একটা চিৎকার ভেসে এলো—-
—এই মেয়ে! দেয়াল টপকাচ্ছো কেন? তুমি মেহরিন না? ফাস্ট ইয়ারের বজ্জাত মেয়েটা!
মুহূর্তেই থমকে গেলো সবাই। আদ্রিয়ানের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। সে সুস্পষ্ট বুঝতে পারলো আসল ঘটনা। শিফা আর শাওন ধীরে ধীরে চোখজোড়া সরু করে একে অপরের পানে তাকালো। আর খানিকবাদেই তারা বুঝে গেলো—মেহরিন সুযোগ বুঝে ভার্সিটির প্রাচীর টপকে পালিয়েছে।
আর তাদের দুইজনকে আদ্রিয়ান নামক যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রেখে গেছে। কথাখানা ভাবতে গিয়েই শাওন-শিফার মুখমণ্ডল লাল হয়ে এলো। নাকের পাটা ফুলে ফেঁপে উঠলো তীব্র রাগে। আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে শিফা আর শাওনের দিকে তাকালো। আর সেই দৃষ্টিতে এক মুহূর্তের জন্য রাগ উধাও হয়ে ভয়ের সৃষ্টি হলো তাদের মনে। আদ্রিয়ানের কড়া দৃষ্টি দেখে দুজনেরই বুক কেঁপে উঠলো।
শাওন কাঁদো কাঁদো মুখে বললো—-
—স্যার, একটা কথা বলি?
—বলো।
—আমরা ওকে ওয়াশরুমে যাওয়া হতে থামানোর চেষ্টা করেছিলাম।
—কখন?
—মনের মধ্যে।
আদ্রিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো শাওনের কথায়। অন্যদিকে ভার্সিটির দেয়ালের ওপাশে নেমে প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে মেহরিন।মুখে একটাই কথা—-
—বেঁচে গেছি!
খানিকবাদে ফের বললো—-
—কথায় আছে না! চাচা আপন প্রাণ বাঁচা,আজ সেটা শুধু কথায় সীমাবদ্ধ থাকলো না মেহু—তুই সেটা করেও দেখালি। বাহ্ মাই গর্জিয়াস লেডি, বাহ্
মেহরিন নিজেই নিজেকে বাহবা দিতে দিতে চলে গেলো ভার্সিটি প্রাসঙ্গ হতে। অন্যদিকে ফেলে গেলো দু’টি ক্ষ্যাপা বাঘ শিফা-শাওনকে। আদ্রিয়ানও এবার প্রচুর রেগে গেলো। তার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা শিফা-শাওনকে উদ্দেশ্য করে কড়া গলায় বললো—-
—তোমাদের দু’জনের হিসেব আমি পরে নিবো। আর ওই মেহরিনকে আমি ছাড়বো না। মুরগী বানানো আমায় না? মুরগী?
কথাগুলো বলতে বলতে সেখান হতে শক্ত মুখে বেড়িয়ে গেলো আদ্রিয়ান। অন্যদিকে বেচারা শিফা-শাওন তীব্র রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বাড়ির পথে পা বাড়ালো। আজ আর মেহরিনকে ছাড়বে না তারা। প্রত্যেকবার তাদের কেনো ফাঁসায় আজ তার কৈফিয়ত নিয়েই ছাড়বে।
———————————
অন্যদিকে, ভার্সিটি থেকে ফেরার পর সোজা নিজের স্টাডি রুমে গিয়ে ঢুকলো আদ্রিয়ান। মুখটা এখনও শক্ত হয়ে আছে তার। মাথায় যেনো আগুন জ্বলছে এহেন অবস্থা। বারবার মেহরিনের পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে তার। মেয়েটা যে এরূপ দুঃসাহসিক একটা কাজ করে বসবে তার তার ভাবনারও বাহিরে। ওতো উঁচু প্রাচীর, কি করে টপকে গেলো সে? এ মেয়ে না-কি কোন সুপার ওয়েম্যান?
আদ্রিয়ান চেয়ারে বসে হাতে কলম তুলে নিলো। কালচে ঠোঁট জোড়া নাড়িয়ে বিড়বিড় করে বললো—–
—মুরগি বানিয়েছে আমাকে!
দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো আদ্রিয়ান।ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলেন আশিক চৌধুরী। ছেলের মুখভঙ্গি দেখে ভ্রু কুঁচকে গেলো তার।
—কি হয়েছে তোর?
আদ্রিয়ান ভ্রু তুললো।
—কিছু না।
—তোর এই “কিছু না” মুখটা আমি চিনি।
আদ্রিয়ান কিছু বললো না। আশিক চৌধুরী সামনে এসে বসলেন। গম্ভীর গলায় বললেন—-
—যাই হোক, একটা খবর আছে।
নির্বিকার রইলো আদ্রিয়ান। সেভাবেই উত্তর করলো—-
—বলো।
—যেই মেয়ের বাবার নাম্বার এনে দিয়েছিলি, তাদের সাথে কথা বলেছি।
আদ্রিয়ান চেয়ার ভালো করে বসলো। কপাল কুঁচকে বললো—
—তারপর?
—কোন লাভ হয়নি।
কুঁচকানো কপাল আরো বেশি কুঁচকে গেলো আদ্রিয়ানের। গম্ভীর গলায় বললো—
—কেন?
আশিক চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
—মেয়ের বিয়ে নাকি অলরেডি ঠিক হয়ে গেছে। পরিবারও রাজি। তাই নতুন করে কিছু ভাবছে না তারা।
কয়েক সেকেন্ড নীরব হয়ে রইলো আদ্রিয়ান। হাতে কলম ঘোরাতে ঘোরাতে হুট করেই তার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো। চোখজোড়া জ্বলে উঠলো তার। আশিক চৌধুরী তা অবলোকন করতেই কপাল কুঁচকে গেলো৷ ভিষন অবাক হলেন তিনি৷
—হাসছিস কেন?
—এমনিই।
—বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে বললাম, তাও হাসছিস?
আদ্রিয়ান টেবিলের উপর আঙুল ঠুকতে ঠুকতে বললো—-
—সব ঠিক হওয়া জিনিস শেষ পর্যন্ত ঠিক থাকে না, ড্যাড।
—মানে?
—কিছু না।
আদ্রিয়ান মুখে কিছু না বললেও তার চোখের সেই অদ্ভুত আত্মবিশ্বাসী হাসি দেখে আশিক চৌধুরীর কেমন যেন সন্দেহ হলো। তিনি সন্দেহভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন—-
—তুই কিছু করবি না তো আবার?
—আমি?
ভদ্র ছেলের মতো মুখ বানালো আদ্রিয়ান।
—আমি তো খুবই শান্ত মানুষ, ড্যাড। আমি আবার কি করবো?
—তুই শান্ত?
—একদম।
আশিক চৌধুরী মুখ বাঁকিয়ে উঠে দাঁড়ালেন।
—আল্লাহ বাঁচাক।
আদ্রিয়ান এবার হালকা হেসে জানালার বাইরে তাকালো। তার মাথার মধ্যে অন্য হিসেব চলছে এখন। সে তার সিগারেটে পোড়া কালচে ঠোঁটজোড়া নাড়িয়ে ফিসফিস করে আওড়ালো—-
—দেয়াল টপকে পালাও, সুইটহার্ট। দেখি আর কতদিন পালাতে পারো এভাবে। আদ্রিয়ান চৌধুরীকে এভাবে ছটফটিয়ে মা*রার শাস্তি খুব তারাতাড়ি তুমি পাবে, সুইটহার্ট। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ্।
———————————
অন্যদিকে বিকেলের দিকে নিজের রুমে আরাম করে শুয়ে ছিলো মেহরিন। মুখে তার উজ্জ্বল হাসি। আজকের দিনের সবচেয়ে বড় অর্জন—আদ্রিয়ানের হাত থেকে সফলভাবে পালিয়েছে সে। আর তাই নিজেই নিজেকে নিয়ে বেশ গর্ব করছে। মেহরিন নিজের পিঠ নিজেই চাপড়ে বললো—-
—মেহু, তুই জিনিয়াস।
ঠিক তখনই দরজায় নক পড়লো। ভেসে এলো শাওনের গলা—-
—মেহু!
মেহরিন উঠে বসলো সেই ডাকে। সকালে তাদের ওভাবে ফেলে পালিয়ে আসার পরে অবশ্য শিফা-শাওন তাকে কিছুই বলেনি।উল্টো মেহরিনের কিছু করার ছিলো না ভেবে চুপ করে গেছে। অন্তত মেহরিনের চোখে তা’ই।
মেহরিন বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। গলার স্বর বাড়িয়ে বললো—-
—কি?
—নিচে আয়।
—কেন?
—আইসক্রিম খেতে যাবো।
মুহূর্তেই চোখ জোড়া চকচক করে উঠলো মেহরিনের। আনন্দভরা কন্ঠে জিজ্ঞেস করল—–
—সত্যি?
—হ্যাঁ।
এবার শিফার গলাও ভেসে এলো—-
—দ্রুত আয়। আমি ট্রিট দিচ্ছি।
মেহরিনের মুখে হাসি ফুটে উঠলো। সে তড়িঘড়ি করে বিছানার উপর থেকে ওড়না তুলে আওড়ালো—–
—দাঁড়া! আসছি!
মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ওড়না গায়ে জড়িয়ে নিচে নেমে এলো সে। শিফা আর শাওন একে অপরের দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হাসলো। মেহরিন সেটা খেয়াল করলো না অবশ্য। সে আপাতত আইসক্রিমের স্বপ্নে মশগুল।
মেহরিন, শিফা শাওন এসে দাঁড়ালো বাড়ির সামনে। এখানেই ঠিক করবে কোথায় যাওয়া যায়। মেহরিন শিফার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো—-
—কোথায় যাবো?
উত্তর করলো শিফা—-
—সামনের পার্কে।
—আইসক্রিম?
—অবশ্যই।
খুশিমনে তাদের সাথে হাঁটতে লাগলো মেহরিন।
পার্কে পৌঁছানোর পর শাওন হাসিমুখে বললো—-
—চোখ বন্ধ কর।
—কেন?
—সারপ্রাইজ।
আইসক্রিমের আশায় বিনা প্রতিবাদে চোখ বন্ধ করলো মেহরিন। চোখের সামনে আইসক্রিমের প্রতিচ্ছবি গড়িয়ে তুলতে তুলতে আচমকা পিঠে একটা হালকা চড় পরলো তার।
—আউচ!
চোখমুখ খিঁচে মৃদু আর্তনাদ করে উঠলো মেহরিন। চোখ খুলতেই দেখলো সামনে দাঁড়িয়ে আছে শিফা। চোখমুখে ভয়ংকর রকমের রাগ তার। অবাক হলো মেহরিন। অবিশ্বাস্য গলায় বললো——
—এটা কিসের জন্য?
কথাটা শেষ হতে না হতেই আর একটা থাপ্পড় আছড়ে পরলো তার পিঠে। মেহরিন চোখমুখ খিঁচে নিয়েছে তীব্র ব্যথায়। শিফা দাঁতে দাঁত চেপে বললো—-
—এটা আমার নানিকে মা*রা বানানোর জন্য!
মেহরিন হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো মাত্র। তখন তো কি সুন্দর করে বোঝালো যা হয়েছে তা ভুলে যা। পরিস্থিতির কথা তুলে মেহরিনের মন জয় করলো। আর এখন এসব করছে তারা?
এরমধ্যেই শাওন সামনে এসে বললো—-
—আর এটা…
বলেই মাথায় হালকা টোকা দিলো।
—আমাদের যুদ্ধক্ষেত্রে রেখে পালানোর জন্য।
মেহরিনের চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। সে অবিশ্বাস্য গলায় বললো—–
—তোরা প্রতিশোধ নিচ্ছিস আমার থেকে?
—জি।
একসাথে বললো দুজন। মেহরিনের সন্দেহ হলো আইসক্রিমের ব্যপারটা। ক্লিয়ার হওয়ার জন্য ফের বললো—-
—আর আইসক্রিম?
—মিথ্যা ছিল।
—কি!
—তুই যেমন আমাদের ফাঁসিয়েছিলি, আমরাও তোকে সেভাবেই ফাঁসিয়েছি।
মেহরিনের মুখ হাঁ হয়ে গেলো তাদের কথায়। কত আশা নিয়ে আইসক্রিম খেতে এসেছিলো সে? আর তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আইসক্রিম নিয়ে মজা করলো এরা? পারলো এটা করতে?
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো মেহরিন। শক্ত গলায় বললো—-
—শিফা…
—হুম?
—শাওন…
—জি?
—তোরা আজকে বাড়ি ফিরতে পারবি না সুস্থ অবস্থায়।
মেহরিনের কথায় দুজনের হাসি মুহূর্তেই উধাও হয়ে গেলো। তারা দেখলো রাগে লাল হয়ে যাওয়া মেহরিনের শক্ত মুখশ্রী।আর পরের মুহূর্তেই মেহরিন ঝাঁপিয়ে পড়লো তাদের দিকে। শিফা আচমকা চিৎকার দিয়ে বললো—-
—পালা!
শাওন পার্কের মূল ফটকের পানে দৌড়ালো।
—বাঁচাও!
—হারাম*জাদা দুটো। তোদের সাহস কি করে হয় আমাকে আইসক্রিমের লোভ দেখিয়ে এভাবে প্রতিশোধ নেওয়ার? আজ তোদের খিচুঁড়ি পাকাবো আমি। দাঁড়া বলছি, দাঁড়া।
মেহরিন নিজের জুতো খুলে শাওনের পিঠে ছুঁড়ে ফেললো। বেচারার দম বন্ধ হয়ে গেলো শক্ত জুতোর আঘাতে। এক মুহূর্ত ব্যথা সইতে না পেরে থেমেছিলো বেচারা। তবে মেহরিনের হাতে পরলে আরো বেশি মা*র খেতে হবে বুঝতে পেরে ফের দৌড় দিলো।
পুরো পার্কজুড়ে আবার শুরু হয়ে গেলো তিনজনের দৌড়াদৌড়ি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে—তিনজন মানুষ না, তিনটা পাগল ছুটে বেড়াচ্ছে।
চলবে……..



