Bangla Romantic Golpo | সুইটহার্ট | পার্ট-২
কন্ঠটা ভিষন চেনা লাগলো মেহরিনের। কপাল কুঁচকে কয়েক সেকেন্ড চুপ…
কন্ঠটা ভিষন চেনা লাগলো মেহরিনের। কপাল কুঁচকে কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো মেয়েটা। অতঃপর কোনপ্রকার দয়া না করে নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে ধাক্কা মারলো পুরুষটিকে।
—আরে আরে কি করছিস? আউচ্!
আচমকা ধাক্কা দেওয়ার ফলে সে টাল সামলাতে না পেরে কয়েকপা পিছিয়ে গেলো। দাঁত কিড়মিড় করতে লাগলো মেহরিন। দরজাটা হাত দিয়ে আলগা করে আওড়ালো—-
—হারাম*জাদা, ইট’স মি সুইটহার্ট না? মারতে চাস আমায়? ভয়ে জান বেড়িয়ে যাচ্ছিলো আর এ এসেছে সুইটহার্ট বলতে! তোর নানীর গু খা তুই। শালা বেড়ালের বাচ্চা, উগান্ডার নাতি।
কথাগুলো বলতে বলতে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে এলো মেহরিন। মাথায় যেনো তার আগুন ধরেছে এহেন অবস্থা। অন্যদিকে মেহরিন রেগে গেছে বুঝতে পেরে শাওন নামক পুরুষটি চুপসে গেলো। গোমড়া মুখ করে পিছু নিলো মেহরিনের।
—সরি ইয়ার। বুঝতে পারিনি তুই এতো ভয় পাবি। আমি তো জাস্ট সারপ্রাইজ দিতে এসেছিলাম।
— সারপ্রাইজ না? সারপ্রাইজ? আর একটু হলে তোর সারপ্রাইজ এর চক্করে আমি ছবি হয়ে যেতাম। আর তুই ন্যাকা কান্না করতে করতে সেই ছবিতে মালা পরাতিস। শালা টিকটিকির বাচ্চা আমার জানটায় নিয়ে নিচ্ছিলো। উফ্,
শাওন পুরোপুরিভাবে চুপসে গেলো মেহরিনের কথায়। মেহরিন দাঁতে দাঁত চেপে এসে দাঁড়ালো ক্যাম্পাসে। গরম আর তীব্র ভয়ে তার চোখমুখ ঘেমে-নেয়ে একাকার। নিশ্বাস ফেলছে জোড়ে জোড়ে। অন্যদিকে শাওন নিজেও তার সামনে দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে বললো—-
—সরি রে, ভুল হয়ে গেছে মাফ কর। এরকম আর কোনদিনও হবে না, প্রমিস।
—তোর কাছেই রাখ তোর সরি।
—প্লিজ রে…,এবারের মতো মাফ কর।
মেহরিন বিরক্তিকর মুখে বাঁকা নজরে তাকাতেই শাওন চকলেটের একটা বাক্স মেহরিনের সামনে ধরলো। মেহরিনের চোখ সেদিকে পারতেই উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। আচমকা শাওনের হাতের চকলেট ছোঁ মেরে তা নিয়ে নিলো মেহরিন। হাসলো শাওন।
—রাগ ভেঙেছে?
মেহরিন থতমত খেলো।
—না..মানে…!
চমৎকার হাসলো যুবক। মাথার চুলে হাত বুলিয়ে বললো—
—লোভী কোথাকার।
মুখ বাঁকালো মেহরিন। শাওন নামক যুবকটি সম্পর্কে তার খালাতো ভাই। দু’জন সমবয়সী, শাওনের বাবা-মা আমেরিকায় থাকে। শাওন নিজেও গত তিনবছর আগে দেশে ফিরেছে। আপাতত চাচির বাসায় থাকে। তবে এখন সে তার খালার বাসায় পারমানেন্টলি থাকার প্ল্যান করে চলে এসেছে। মেহরিনের ভার্সিটিতে অ্যাডমিনশ নিবে বলেও ঠিক করেছে।
মেহরিন চকলেট খেতে খেতে শাওনকে উদ্দেশ্য করে বললো—-
—কখন এসেছিস? আর এখানে কেনো?
শাওন মাথার চুলে হাত চালিয়ে বললো—–
—সরাসরি এখানেই এসেছি, বাসায় যাওয়া হয়নি এখনো।
ভ্রু যুগল কুঁচকে নিলো মেহরিন।
—এখানে কেনো এসেছিস আগে?
—তোকে সারপ্রাইজ দিতে।
মুখ বাঁকালো মেয়েটা। তখনি সেখানে এসে হাজির হলো শিফা। শাওনকে দেখে কপাল কুঁচকে নিলো সে। মেহরিনের পাশে দাঁড়িয়ে বললো—-
—এই বাঁদরমুখোটা কে রে, দোস্ত? শাওন না-কি?
আচমকা হেঁসে ফেললো মেহরিন। দাঁতে দাঁত চাপলো শাওন। আঙুল তুলে কড়া গলায় বললো—
—হেই ইউ সকিনার খালা। মাইন্ড ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ। ডোন্ট কল মি বাঁদরমুখো, ওকে?
চোখমুখ খিঁচে নিলো শিফা। মেহরিনের কাঁধে ভর ছেড়ে বললে—-
—ওকে, কোন সমস্যা নেই। আজ থেকে তাহলে ব্রিটিশ ডাকবো,
—কেনো কেনো?
মেহরিনের কথায় ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো শিফা। বললো—-
—কজ এই বাঁদরটা আমার সামনে এলেই খালি ইংরেজি বকে। তাই ব্রিটিশ নামটাই ঠিক আছে এর জন্য।
মেহরিন ঠোঁট চেপে হাসলো। অন্যদিকে শাওন চুপ মেরে গেলো। এই মেয়েটাকে সে চেনে। যখনি মেহরিনের সাথে দেখা করেছে তখনি শিফা নামক অদ্ভুত প্রাণিটার সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটেছে। তাই হার মানলো সে। কেননা সে যতই কথা বলবে শিফা নামক মেয়েটা ততই বেশি বকবক করবে। তাই রিক্স নিতে গেলো না শাওন।
শিফা শাওনের চুপ মেরে যাওয়া দেখে বিজয়ীর হাসি হাসলো। অতঃপর মেহরিনের কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বললো—-
—এই মেহু, যেটা বলতে এসেছিলাম। আদ্রিয়ান স্যার তোকে ডাকছে। বললো দেখা করতে। স্যার নিজের কেবিনেই আছে। গো ফাস্ট।
শিফার কথাটা মেহরিনের কানে বেশ বড়সড় একটা বিস্ফোরণ ঘটালো। অবিশ্বাস্য নেত্রে সে তাকালো শিফার পানে। বুকটা ধক করে উঠলো আবারো৷ কয়েক মুহূর্ত আঁখিপল্লব ঝাপটে বললো—-
—ক…কি বলছিস? স্যার কেনো ডাকছে?
কাঁধ ঝাকালো শিফা।
—জানিনা।
অন্যদিকে মেহরিনের অস্বাভাবিকতা লক্ষ করে কপাল কুঁচকে নিলো শাওন। মেহরিনের কাঁধে হাত রেখে জানতে চাইলো—-
—আর ইউ ওকে না? কি হয়েছে তোর? ঘামছিস কেনো?
থতমত খেলো মেহরিন। ওড়না দিয়ে মুখ মুছে নিলো তড়িঘড়ি করে। কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে বললো—-
—ক…কই না-তো! এমনিতেই, যে গরম পরেছে।
কথাটা শেষ করেই ফের বললো—-
—আচ্ছা তোরা দ্বারা আমি আসছি।
মাথা ঝাঁকালো শাওন-শিফা। মেহরিন পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলো আদ্রিয়ানের কেবিনের পানে। তার পা কেমন কাঁপছে, বুকটাও ধড়ফড় ধড়ফড় করছে।
মেহরিন তার চুলগুলো ঠিক করলো। কাঁপা পায়ে এসে থামলো আদ্রিয়ানের কেবিনের সামনে। অতঃপর নিজের সকল ভয় আর অস্বস্তিকে এক সাইডে রেখে কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলো—
—ম…মে আই কামিং, স্যার?
ওপাশ থেকে ভেসে এলো গমগমে কন্ঠস্বর—-
—কামিং।
মেহরিন কাঁপা হাতে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই থমকে গেলো। চোখজোড়া স্থির হলো এক রমনীর মুখপানে। যে অদ্ভুত ভঙ্গিতে কোমড় হেলিয়ে বসে আছে। ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সাথে উঁচু হিল সমেত ভারী মেক-আপে ঢাকা মেয়েটিকে অদ্ভুত লাগলো মেহরিনের। এতো ছোট্ট পোশাক কেউ পরে না-কি? মেহরিন প্রবেশ করতেই কেমন বাঁকা নজরে তাকালো রমনী। তবে মেয়েটা সেদিকে পাত্তা না দিয়ে তার মুখ হতে চোখ ফিরিয়ে কাঁপা কাঁপা আঁখিপল্লব মেলে ধরলো সামনের দিকে। তবে তার মনে আরো একটা প্রশ্নের উদয় হলো, এই মেয়েটি কে? আদ্রিয়ান স্যারের কেবিনে কি করছে? আর এমন অদ্ভুত ভঙ্গিতেই বা বসে আছে কেনো? সামনে যে একজন পুরুষ আছে সেদিকে খেয়াল নেই? আশ্চর্য!
মেহরিনকে দেখেই মাথা তুলে সোজা হয়ে বসলো আদ্রিয়ান। তীক্ষ্ণ চোখজোড়া মেলে ধরলো মেহরিনের পানে। আর সেই গভীর চাহুনি মেহরিনের হৃদয়ে কম্পন ধরালো। শুকনো ঢোক গিললো সে।
—মিস মেহরিন! গিভ মি ফোন নং।
চমকে তাকালো মেহরিন। সে অবাক হয়। ভিষন অবাক। মনে মনে ভাবে, সে কি ধরা পরে গেলো? আর তার জন্যই নাম্বার চাচ্ছে! উপস্থিত রমনীও কপাল কুঁচকে নিলো। বললো—-
—আরে বেইবি তুমি ওর ফোন নাম্বার নিয়ে কি করবে? আশ্চর্য!
আদ্রিয়ান কথা বললো না। সে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মেহরিনের পানে। মেহরিন উপস্থিত মেয়েটির ন্যাকামো মিশ্রীত গলায় তীব্র বিরক্ত অনুভব করলো। মনে মনে বললো—-
—এ্যাঁ, বেইবি! কচি খোকা বল কচি খোকা। মানে একদম যা-তা। এতবড় দামড়া একটা গন্ডারকে বলে কি-না বেইবি? যত্তসব ন্যাকামো।
মেহরিন বিরক্তিকর মুখে কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই সামনের দিকে তাকায়। আর তাকিয়েই আদ্রিয়ানের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আবারো নুইয়ে পড়ে মেয়েটা। মেহরিন শুকনো ঢোক গিলে বললো—-
—ই..ইয়ে মানে স্যার আমি আসলে…।
—গিভ মি ইউর ফাদার্স ফোন ন।
—মা…মানে?
—তুমি কি কানে শুনতে পাও না? ইডিয়ট একটা।
দাঁতে দাঁত চেপে বললো আদ্রিয়ান। অন্যদিকে
এবার ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দিতে ইচ্ছে হলো মেহরিনের। সে ভেবেই নিলো যে কাল রাতের করা কর্মকান্ডগুলো তার বাবাকে জানাবে বলেই আদ্রিয়ান তার থেকে নাম্বার চাচ্ছে। আর বাড়িতে যদি জানাজানি হয় তখন?
মেহরিন কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো—
—স্যার প্লিজ স্যার এবারের মতো মাফ করে দিন, প্লিজ স্যার আর এরকম হবে না এবার অন্তত মাফ করে দিন।
কপাল কুঁচকে বিরক্তিকর শ্বাস ফেললো আদ্রিয়ান। কড়া গলায় ধমকে বললো—-
—শাট আপ ইডিয়ট। নাম্বারটা দাও আর বেড়িয়ে যাও এখান থেকে। গেট লস্ট।
—স্যার প্লিজ….।
—আই সেইড স্টপ ইট।
চমকে উঠলো মেহরিন। উপস্থিত রমনী বিরক্তিকর চাহুনি নিয়ে বললো—-
—এই মেয়েটা তো বেশ অভদ্র। কি করে কথা বলতে হয় তাও জানে না? ম্যানার্সলেস কোথাকার।
মেহরিন ভয়ের মাঝেও দাঁতে দাঁত চাপলো৷ মনে মনে আচ্ছা করে ধুয়ে দিলো মেয়েটাকে।
—শালী মুখে এক থাবা শেয়ালের গু মেখে ঢং করছিস, পুরুষ মানুষের সামনে মেলে দিয়ে বসে আছিস আবার আমাকে মানার্সলেস বলছিস? শালী কুত্তার গু খা। তোর মাথায় বাজ পরুক৷ পাগল হয়ে পাবনায় ভর্তি হ তুই, আমি দশ’টাকা খরচ করে দেখতে যাবো তোকে।
—মিস মেহরিন!
—ইয়েস স্যার।
আচমকা আদ্রিয়ানের ভারিক্কি কন্ঠে চমকে উঠে স্যালুট দিয়ে বসে মেহরিন৷ বিরক্ত হয় পুরুষটি। আদ্রিয়ান দাঁতে দাঁত চেপে ধরতেই হুশ আসে মেহরিনের। কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলে—-
—সরি স্যার।
উপায়ন্তর না পেয়ে আদ্রিয়ানকে নিজের বাবার নাম্বার দিয়ে কেবিন ছেড়ে বেড়িয়ে এলো মেহরিন। বুকে হাত দিয়ে বেশ কয়েকবার ফু দিলো। অতঃপর সোজা ক্যাম্পাসে চলে এলো। শাওন-শিফা তখন সেখানেই দাঁড়িয়ে তার জন্য। মেহরিনকে আসতে দেখে শিফা কপাল কুঁচকে বললো—–
—এতো দেরি হলো কেনো রে?
—স্যারকে বসে বসে চুমু খাচ্ছিলাম রে। দাঁড়িয়ে খেতে চাইলাম স্যার বললো বসে খাও, তাই বসতে গিয়ে দেরি হয়ে গেলো।
মেহরিনের কথায় ভরকে গেলো শিফা। অন্যদিকে কেঁশে উঠলো শাওন। বড়বড় আঁখিপল্লব মেলে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো মেহরিনের দিকে। শিফা মাথা চুলকে চোখমুখ খিঁচে বললো—-
—তুই দিন দিন অশ্লীল হয়ে যাচ্ছিস রে।
—জ্বী, অবশ্যই৷ আপনি যে আমার গুরু মনে আছে রে?
থতমত খেলো শিফা। বিরক্তিকর শ্বাস ফেলো চুপ মেরে গেলো। অন্যদিকে রাগান্বিত মেহরিন ভাবতে লাগলো বাড়ি ফিরে তার আজ কি হবে। আদ্রিয়ান যদি বাড়িতে সব বলে দেয় তাহলে তার খেলা এখানেই শেষ। কথাটা ভাবতেই কান্না পেলো তার। ধপাধপ পা ফেলে বেড়িয়ে গেলো ক্যাম্পাস হতে।
চলবে…….

